২০১৮ সালের পর প্রথমবার ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা নিউজিল্যান্ডের। প্রবাথ জয়াসুরিয়ার ঘূর্ণিতে ৮৮ রানেই প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ার পর ফলোঅন করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট ১৯৯ রান করেছে তারা। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের ৬০২ এখনো ৩১৫ রান দূরে। ১৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এই গলেই দুবার ১০+ উইকেট শিকারি জয়াসুরিয়ার স্পিনের ফাঁদ এড়াতে পারা কঠিন নিউজিল্যান্ডের জন্য। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেটে ৭৮ রান যোগ করা টম ব্লান্ডেল (৪৭*) ও গ্লেন ফিলিপস (৩২*)-দের বাঁচিয়ে দিতে পারে বরং বৃষ্টি। তৃতীয় দিনের বিকেলে খেলা হয়নি বৃষ্টিতে। আজ ও কাল সারা দিনই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে গলে।
নিউজিল্যান্ড দিনটা শেষ করেছিল ২ উইকেটে ২২ রান নিয়ে। গতকাল লাঞ্চের আগেই আর মাত্র ৬৬ রান যোগ করেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই প্রথম ১০০ রানের কমে অলআউট হলো কিউইরা। লঙ্কানদের ৫১৪ রানের লিড টেস্টে ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে এটি পঞ্চম সর্বোচ্চ লিড। ১৯৩৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৭০২ রানের লিড পেয়েছিল ইংল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডকে এমন রেকর্ডে চাপা দেওয়ার পর নিজেরা আবার ব্যাটিংয়ে নামেনি শ্রীলঙ্কা। চলতি বছর টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবার কোনো দল ফলোঅন করতে নামে। নেমেই নিউজিল্যান্ড প্রথম ওভারে হারিয়ে ফেলে ওপেনার টম ল্যাথামকে। অভিষিক্ত অফ স্পিনার নিশান পেইরিস নিয়েছেন উইকেটটি। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৯৭ রান যোগ করেন ডেভন কনওয়ে ও কেইন উইলিয়ামসন। ৪ ওভারের মধ্যে ১৩ রানের ব্যবধানে বিদায় নেন দুজন। কনওয়ে ৬২ বলে ৬১ ও উইলিয়ামসন ৫৮ বলে করেন ৪৬ রান।
এই দুজনের বিদায়ের পর ড্যারিল মিচেল ও রাচিন রবীন্দ্রও ফেরেন অল্পতে। তাতে ৮ ওভারের ব্যবধানেই ১ উইকেটে ৯৭ থেকে ৫ উইকেটে ১২১ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। এরপর ব্লান্ডেল ও ফিলিপসের প্রতিরোধ। টিকে থাকতে পাল্টা আক্রমণই বেছে নেন দুজন। উইকেটকিপার ব্লান্ডেল ৪৭ করেছেন ৫০ বলে, ফিলিপস ৪১ বলে করেছেন ৩২ রান। দুজনেই মেরেছেন ২টি করে ছক্কা।
নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছেন পেইরিস। প্রথম ইনিংসেও ৩ উইকেট পেয়েছিলেন এই অফ স্পিনার। তবে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ইনিংসে নাস্তানাবুদ করায় মূল ভূমিকা রাখা জয়াসুরিয়া ৪২ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ১৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে নবমবার ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া এই বাঁহাতি দ্বিতীয় ইনিংসেও ৬ উইকেট পেলে (এজন্য নিউজিল্যান্ডের বাকি ৫ উইকেটই নিতে হবে) উইকেটের সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ৬০২/৫ ডি.। নিউজিল্যান্ড: ৩৯.৫ ওভারে ৮৮ (স্যান্টনার ২৯; জয়াসুরিয়া ৬/৪২, পেইরিস ৩/৩৩) ও ৪১ ওভারে ১৯৯/৫ (কনওয়ে ৬১, ব্লান্ডেল ৪৭*, উইলিয়ামসন ৪৬, ফিলিপস ৩২*; পেইরিস ৩/৯১)।
