স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়াকে অসম্পূর্ণ ও ভুলে ভরা বলে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, আইনের খসড়ায় নানা জটিলতা, অস্পষ্ট ও ভুল রয়েছে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে এই আইন সংশোধন করা উচিত।
গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলাভবনে অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্ম বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪ প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ’ শীর্ষক এক পর্যালোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় ঢাবির স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, এই খসড়া আইনে অনেক ভুল ও অস্পষ্টতা রয়েছে। এসব দুর্বলতা সমাধান করে আইন প্রণয়ন করা উচিত।
সভায় আলোচকরা মত দেন, এই আইনের খসড়া তৈরির আগে গবেষণা করা হয়নি। যে যা বক্তব্য ও প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলোকে শুধু এক জায়গায় করা হয়েছে। এই খসড়া পূর্ণাঙ্গ নয়। খসড়ায় হাসপাতালের সংজ্ঞায় বিভ্রান্তি রয়েছে। এটাকে পর্যালোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে চূড়ান্ত করতে হবে যাতে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, এই খসড়া প্রস্তাবনায় বহু ফাঁক-ফোকর রয়েছে। এতে চিকিৎসক ও রোগী কোনো পক্ষই উপকৃত হবে না। স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষার নামে কেবল চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। রোগীর সুরক্ষার কথা সবগুলো আইনে নেই। চিকিৎসকদের সুরক্ষার পাশাপাশি রোগীদেরও সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
এই আইনজীবী আরও বলেন, আইনে চিকিৎসায় অবহেলা হলে চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল, সামান্য শাস্তি দেওয়া, এর বাইরে কিছুই করার নেই। কিন্তু ভারতের ভোক্তা অধিকার আইনে রোগী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। রোগীর ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়াকে ‘আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেন ডা. আবদুন নূর তুষার। তিনি বলেন, যে খসড়া নিয়ে আলোচনা করছি তা স্বৈরাচারের আমলে তৈরি করা। এখানে অন্তত ৪০টি ভুল ও হাস্যকর বিষয় দেখাতে পারব। যারা এটি করেছেন, তারা কোনো গবেষণা করেননি। এটি একটি আবর্জনা। এটি নিয়ে আলোচনা করা মানে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।
হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি বলেন, এটি একটি দায়সারা কাজ। এখানে কাউকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। এখানে মোবাইল কোর্টের বিষয়টি আনা হয়েছে, যা যুক্তিযুক্ত নয়। এ ছাড়া অসংখ্য অসংগতি রয়েছে। গবেষণা ও আলোচনার মাধ্যমে এসব অসংগতি সংশোধন করতে হবে। আলোচনায় স্বাস্থ্য প্রশাসন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, আইনজ্ঞ, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ নানা অংশীজন অংশ নেন।
