আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যকথন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:১৬ এএম

আজ ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’। বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি পালন করা হয়।

প্রবীণদের স্বাস্থ্য সমস্যা

মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পাকা, চুল পড়া, ত্বকে বলিরেখা, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি কমতে থাকা, চোখে ছানি প্রভৃতি সমস্যা দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রুচি আর ঘুম কমে যায়। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কায়িক পরিশ্রমের ঘাটতি, ওষুধ খেতে ভুলে যাওয়া প্রভৃতি কারণে ডায়াবেটিস হয়ে পড়ে অনিয়ন্ত্রিত, দেখা দিতে পারে হাইপোগ্লাইসেমিয়া। বয়স্কদের সাধারণত সিস্টোলিক হাইপারটেনশন দেখা দেয়। ব্লাড প্রেশার হতে পারে অনিয়ন্ত্রিত। তাই উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বয়স্কদের বিশেষভাবে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। রক্তনালি সরু হতে থাকে, ফলে উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় হাড় ক্ষয়, একে অস্টিওপোরেসিস বলে। সামান্য আঘাতে  হাড় ভেঙে যায়। অস্টিও আর্থ্রাইটিসের কারণে বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয় ও কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেকেই এই ব্যথা-বেদনার জন্য দীর্ঘ সময়ব্যাপী ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসআইডিএস খেয়ে থাকেন। যা কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। অন্ত্রে করে ক্ষত, অনেক সময় অন্ত্র ফুটো হয়ে গিয়ে ঘটতে পারে মহাবিপত্তি। বয়স্ক পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাব লাগা, প্রসাব ধরে রাখতে না পারা, প্রসাব করতে কষ্ট হওয়া প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়স্ক মহিলাদের প্রস্রাবে ইনফেকশন হতে পারে।

প্রকৃতিগতভাবেই মাসিক বন্ধ হয়ে গিয়ে এ সময় মাসিক-পরবর্তী নানা জটিলতা যেমন হঠাৎ করে মাথা দিয়ে গরম ভাপ বের হওয়া, অস্থির লাগা, হঠাৎ ঘাম দেওয়া প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। ব্রেইন এট্রোফির ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ডিমনেশিয়াতে আক্রান্ত হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। বয়স্ক মানুষের খুব সহজেই পানিশূন্যতা বা লবণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে হাত-পা অবশ, অস্থিরতা, এমনকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট পর্যন্ত হতে পারে। বয়স্ক মানুষের নানা ধরনের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে বয়স্কদের নিউমোনিয়া বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, প্রস্রাবে ইনফেকশন প্রভৃতি থেকে সেপটিসেমিয়া, মাল্টি অর্গান ফেইলিওরের মতো জীবন সংহারী সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রবীণদের জন্য পরামর্শ

 স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন অথবা হাঁটুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ সেবন করবেন না। এই সময় কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা শারীরিক সুস্থতা অনুভব করলেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে সতর্ক

থাকুন।  সব সময় হাসিখুশি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করুন।

এ সময় হাড় ক্ষয় হয়ে ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই পিচ্ছিল জায়গা পরিহার করুন।  হাঁটার সময় প্রয়োজনে লাঠি ব্যবহার করুন। সিঁড়ি ব্যবহারের সময় রেলিং ধরে নামবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত