বিশ্বকাপে ১০ বছর পর জয়

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:২০ এএম

শারজায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হওয়া ছাড়াও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে এ ম্যাচটির গুরুত্ব ছিল আরও। এ ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে শততম ম্যাচ খেলতে নামেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এ ছাড়া গত ১০ বছর, ৪টি বিশ্বকাপ আসর এবং বিশ্বকাপে ১৬ ম্যাচ ধরে অধরা জয়ের স্বাদ পাওয়ার চ্যালেঞ্জও ছিল বাংলাদেশের সামনে। এ সবকিছুরই শেষটা হয়েছে ইতিবাচকভাবে। স্কটল্যান্ডকে ১৬ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা হয়েছে নারীদের এবারের বিশ্বকাপ আসরের। সেই সঙ্গে সহঅধিনায়ক নাহিদা আক্তারও করেছেন ‘সেঞ্চুরি’। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শততম উইকেট শিকার করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

শারজায় টস জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জ্যোতি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুটাও হয় ভালো। সাথী রানী ও মুরশিদা খাতুনের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ২৬ রান। একবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া মুরশিদা ১৪ বলে ১২ রান করে আউট হন পঞ্চম ওভারে। উইকেট আগলে রাখার প্রচেষ্টা সফল হলেও রানরেট আশাপ্রদ ছিল না নারীদের। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৫৫ রান তোলে বাংলাদেশ। ১২তম ওভারে সাথীর ফিরলে ৪২ রানের জুটি ভাঙে। ৩২ বলের ইনিংসে ৩ চারে তিনি করেন ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান। পরের ওভারে নিজের ভুলে রান আউট হয়ে যান এ ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হওয়া তাজ নেহার। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফেরেন সোবহানা মোশতারি। ৩৮ বলে ২ চারে ৩৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস। শততম ম্যাচে ১ চারে ১৮ বলে সমান ১৮ রান করেই থামেন জ্যোতি। শেষদিকে ফাহিমা খাতুনের ৫ বলে ১০ রানের ইনিংসের সুবাদে শেষ দুই ওভারে ১৬ রান নিলেও বাংলাদেশের মোট সংগ্রহ আটকে থাকে ওভারপ্রতি ছয়ের নিচেই, ৭ উইকেটে ১১৯ রানে। স্কটল্যান্ডের সাসকিয়া হরলি ১৩ রানে নেন ৩ উইকেট। এ ছাড়া ক্যাথরিন ব্রাইস, অলিভিয়া বেল ও ক্যাথেরিন ফ্রেজার শিকার করেন ১টি করে উইকেট।

১২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করা স্কটল্যান্ড দলটির ব্যাটিং স্তম্ভ হলেন দুই ব্রাইস বোন, ক্যাথরিন ও সারাহ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মারুফা আক্তার যখন ক্যাথরিনকে ফেরালেন তখনই অনেকটা স্বস্তি নেমে আসে বাংলাদেশ তাঁবুতে। অন্যপ্রান্তে শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে লড়ে গেলেও বাংলাদেশি বোলারদের চমৎকার নিয়ন্ত্রিত বোলিং স্কটিশদের বেঁধে রাখে গণ্ডির মাঝে। তাতে ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১০ বছর পর আবার এ বৈশি^ক আসরটিতে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। প্রথম ছয় ওভারে ৩১ রানে ২ উইকেট নিয়ে স্কটল্যান্ডের ইনিংসে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে বাংলাদেশ, যা পরের দিকে শুধু বেড়েছেই। শেষ পাঁচ ওভারে ৪৮ আর শেষ দুই ওভারে ৩১ রানের সমীকরণ না মেলাতে পেরে পরিষ্কার ব্যবধানেই হারে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা স্কটল্যান্ড। ম্যাচে রিতু মণি নিয়েছেন ১৫ রানে ২ উইকেট। এ ছাড়া মারুফা, নাহিদা, ফাহিমা ও রাবেয়া প্রত্যেকের শিকার ১টি করে উইকেট। স্কটল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৯ রান এসেছে সারাহ ব্রাইসের ব্যাটে। এ ছাড়া ক্যাথরিন ও অ্যালিসা লিস্টার দুজনই ১১ রান করেন।

২০১৪ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিতে গিয়ে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এ ফরম্যাটের বৈশি^ক আসরে ওটাই ছিল প্রথম আর শেষ জয়। ম্যাচের পর অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়া জ্যোতি বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের মনে ছিল, এটাই আমাদের সময়। এই জয় আমাদের জন্য অনেক অর্থবহ। এই ধরনের উইকেটে মানিয়ে নেওয়া জরুরি ছিল এবং শুরুতে ব্যাট করা মোটেও সহজ ছিল না। তবে রানী ও মোশতারির পার্টনারশিপ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা একটি ভালো স্কোর দাঁড় করিয়েছিলাম এবং আমাদের নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল।’

নিয়ন্ত্রিত বোলিং উপহার দেওয়া ইউনিটটির হয়ে সেরা নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরা হন রিতু মণি। আমিরাতে ক্রিকেট অবকাঠামো দেখতে সফরে যাওয়া ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কাছ থেকে ম্যাচসেরার পুরস্কার নেওয়ার পর রিতু বলেছেন, ‘উইকেট মোটামুটি ভালো ছিল, তাই আমি চেষ্টা করেছি সঠিক লাইনে বল করে আমার বৈচিত্র্য কাজে লাগাতে। আমরা গত বছর অনেক পরিশ্রম করেছি এবং সেই পরিশ্রম আজ ফল এনে দিয়েছে। এটি আমার এবং দলের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমরা কন্ডিশন বুঝে আমাদের শক্তির ওপর নির্ভর করে বল করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কন্ডিশন অনুযায়ী বল করা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল।’

বিশ্বকাপ যাত্রায় পরের ম্যাচেই শনিবার শিরোপা দাবিদার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত