সাভারে ওলামালীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ১২

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম

সাভার ও আশুলিয়ায় পুলিশের পৃথক অভিযানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুই জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন। অন্যদিকে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে ওলামালীগ নেতা ফয়জুল ইসলাম ফয়েজকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আশুলিয়া থানার কুন্ডলবাগ এলাকার হাজী কেরামতের ছেলে আতাউর রহমান (৫০) ও একই থানার গোরাট এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে আল-আমিন (২৯) এবং সাভারের আমিন বাজার ইউনিয়নের নরসিংহপুর এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মাওলানা ফয়জুল রহমান ফয়েজ (৩৫)। সে আমিন বাজার ইউনিয়নের ওলামালীগের সভাপতি বলে জানা যায়।

মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হৃদয় আহমেদ সাভারের থানা রোডে মুক্তিমোড় এলাকার আসে। সেখানে ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে একাত্মতা পোষণ করে ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। এ সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুকুমে এবং প্ররোচনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞাতনামা আরও আসামিরা হামলা করে। এ সময় আসামিদের সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের ধাওয়া করে এবং এলোপাতাড়ি পেটায় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়া উপর্যুপরি গুলি বর্ষণ করে। এ সময় হৃদয়ের বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট সকালে হৃদয়ের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ৩১ আগস্ট নিহত হৃদয়ের বাবা রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০-২০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ওলামালীগ নেতা ফয়জুল ইসলাম ফয়েজ। 

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর আলম বলেন, ‘সাভারের আমিন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়জুল ইসলাম ফয়েজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যা ও ৬ আগস্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার দুই আসামি ছাড়াও বিভিন্ন মামলায় আরো নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তারা হলেন- আতিকুর রহমান (২১), হামিদুর রহমান (৩৫), শিমুল উদ্দিন (২৭), সজিব ইসলাম (২৭), শাহানুর রহমান (২০), সাকিবুল ইসলাম সাকিব (২৪), মোস্তাফিজুর রহমান (৫০), রাশিদুল ইসলাম রুবেল (১৯), মো. মঈনুদ্দিন (২৫)।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুই আসামি ও বিভিন্ন মামলায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত