ছাত্রলীগ নেতাকে পেটাতে পেটাতে বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:০৪ এএম

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে মারধরের পর জুতার মালা পরিয়ে রাস্তায় ঘুরিয়ে উল্লাস করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে। পরে ছাত্রলীগের সাবেক ওই নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গত ২৬ আগস্ট নগরীর চকবাজার থানায় হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে বলে নগর ছাত্রলীগের এক নেতা এবং মারধরের শিকার ছাত্রলীগের সাবেক নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার আবদুল্লাহ আল সাইমন (২৭) চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০২০ সালে গঠিত কমিটিতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বাবার নাম নাজিম উদ্দিন।

মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সামদানি জনি অভিযোগ করে বলেন, অসুস্থ মাকে দেখতে সাইমন বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম শহর থেকে গ্রামের বাড়ি যান। এ সময় ছাত্রশিবিরের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী তাকে আটকে মারধরের পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলেন। অটোরিকশায় চট্টগ্রাম শহরে আসা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটারের দীর্ঘ পথে কিছুক্ষণ পরপর সাইমনকে মারতে থাকেন শিবিরের কর্মীরা। রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম কলেজে এনে আরেক দফা মারধর করা হয় সাইমনকে। এর আগে লোহাগাড়ায় দফায় দফায় মারধরের পর জুতার মালা পরিয়ে সাইমনকে রাস্তায় ঘোরানো হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ি এলে তাকে এলাকার কিছু ছেলে বেধড়ক মারধর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। এর আগে তাকে জুতার মালা পরিয়ে লোহাগাড়ায় গ্রামের রাস্তায় ঘোরানো হয়। পরে শুনেছি রাত ৯টার দিকে আমার ছেলেকে চকবাজার থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। কারা আমার ছেলেকে মারধর করেছে তাদের নাম সবাই জানে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে লোহাগাড়া সদরে ছাত্রলীগ নেতা সাইমনকে লাঠিসোঁটা হাতে ঘিরে ফেলে একদল যুবক। ‘ছাত্রলীগ কেন করেছিস’ বলেই সাইমনকে তারা মারধর শুরু করে। লাঠি দিয়ে মারতে মারতে তার কাছে ওই যুবকরা জানতে চায়, ‘কারা আন্দোলনের মিছিলে গুলি করেছিল? কারা নির্দেশ দিয়েছে?’ এ সময় সাইমন আর্তনাদ করে বারবার বলতে থাকেন, ‘মসজিদ ধরে শপথ করে বলতে পারি, আমি কোনো কিছু করিনি। আমি কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত নই।’ সাইমনকে মারধরের পর জুতার মালা পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ নিজের ফেসবুক পেজে বৃহস্পতিবার রাতে আপলোড করেন নগর ছাত্রলীগ নেতা গোলাম সামদানি। পরে সেটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ প্রসঙ্গে চকবাজার থানার ওসি জাহিদুল কবীর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল সাইমনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৬ আগস্ট চকবাজার থানায় করা একটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাইমনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তবে থানায় সোপর্দ করার আগে দফায় দফায় মারধর করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন সাইমন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত