কুমিল্লায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রকাশ্যে পিস্তল দিয়ে ছাত্র-জনতার অপর গুলি চালায় মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ প্রত্যাশী আল আমিন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এলাকায় এখনো প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহার উদ্দিনের অনুসারী আল আমিন নগরীর সংরাইশ এলাকার মো: ইদু মিয়ার ছেলে। জেলা পুলিশের হিসাবে ২০টি মামলার চিহ্নিত আসামি আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। পুলিশের বিশেষ শাখার তালিকায় তাকে ‘কিলার আল-আমিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের কাছে কুমিল্লার শহরে ‘ভয়ংকর কিলার’ হিসেবে একনামে পরিচিত আল আমিন। অভিযোগ আছে, দিনে-দুপুরে চাঁদা চেয়ে চিরকুট পাঠাতো তার বাহিনী। সঙ্গে পাঠাতো কাফনের কাপড়। চাঁদার টাকা না দিলে হারাতে হতো প্রাণ। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়ে, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পুলিশের তথ্য বলছে, আল আমিনের নামে পুলিশের কাছে রয়েছে চারটি হত্যা মামলার নথি। এ ছাড়া চাঁদাবাজি, অপহরণ, বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার, হত্যাচেষ্টা, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের উপর গুলিসহ ১২টি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ৫ই আগস্টের পর নগরীর সংরাইশ এলাকায় থেকে এক তরুণীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে চারদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় অর্ধশতাধিক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক সংরাইশ, শুভপুর, বজ্রপুর, সুজানগর, পাথুরি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক বাসিন্দা বলেন, এলাকাতে নতুন বাড়ি করতে গেলে আল-আমিন বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না পেলে প্রকাশ্যে বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন পাওয়া যায় না। তার নামে একাধিক মামলা থাকলেও তার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আশ্চর্য করে স্থানীয়দের।
ছাতিপট্টি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেন দ্বীন ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাৎসরিক ১ লক্ষ চাঁদা দিতে হতো আল আমিনের বাহিনীকে। গত ৫ আগস্টের পর টাকা দিতে আপত্তি জানালে, আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এখন পরিবার নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে শহরে বসবাস করছি। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করে কোন লাভ হয়নি।
মামলার একাধিক বাদী অভিযোগ করে বলেন, অজ্ঞাত কারণে আল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। একাধিক হত্যা মামলার এই আসামি এখনো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে।
কুমিল্লা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, আমরা ছাত্র সমন্বয়কের পক্ষে সন্ত্রাসী আল আমিনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করেছি। তার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীর ওপর গুলি বর্ষণ করা হয়েছে। অথচ সে এখনও কুমিল্লা শহরে ঘুরছে, প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম এন্ড অবস) খন্দকার আশফাকুজ্জামান বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে, তার (আল-আমিন) বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার আসফিকুজ্জামান আকতার বলেন, সারা দেশের ন্যায়ে কুমিল্লাতেও যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে। সর্বশেষ ছয় জন আটক করা হয়েছে বিভিন্ন স্থান থেকে। আল আমিনসহ চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
