কোটা সংরক্ষণের নামে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য করেছে বলে জানিয়েছেন ক্যাডারবঞ্চিত প্রার্থীরা। তারা বলেছেন, কোটা সংরক্ষণের জন্য ৬৭২টি পদ খালি রাখা হয়। এতে উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদ পাননি ৩৪তম বিসিএসের ৭৪ চিকিৎসকসহ ৬৭২ জন প্রার্থী। গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যাডারবঞ্চিতরা এ তথ্য জানান। ৩৪তম বিসিএস কোটা বৈষম্যের শিকার ক্যাডারবঞ্চিত ফোরাম এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্যাডার পদবঞ্চিত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) এমডি কোর্সে অধ্যয়নরত ডা. তফিজুল ইসলাম।
এই চিকিৎসক বলেন, ‘বঞ্চনা মাথায় নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে লড়ছি। শেষ অবধি সংগ্রাম চালিয়ে যাব। কোটা সংরক্ষণের নামে ৬৭২টি পদ খালি রাখে তৎকালীন স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে বারবার আন্দোলন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমরা চাই, আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম জনি বলেন, ‘আমরা সরাসরি কোটা বৈষম্যের শিকার। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদ পাইনি। অন্যান্য বিসিএসে কোটা সংরক্ষণ করা হয়নি। কিন্তু ৩৪তম বিসিএসে কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি সাংবিধানিক অধিকারহরণ।’
লিখিত বক্তব্যে দেশে কোটাবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, ৩৪তম বিসিএসের কোটা বৈষম্যের শিকার প্রার্থীরাই ২০১৩ ও ২০১৫ সালে শাহবাগে প্রথম এই কোটাবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্রভাবে সংঘটিত হয়। এ আন্দোলনের মূলভিত্তি ছিল, কোটা প্রথার বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং পরে তা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সেই সময়ের আন্দোলনের কারণেই বলি হতে হয় ৩৪তম বিসিএসের উত্তীর্ণ প্রার্থীদের।
