বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ‘ঢাকা রাইজিং’ কর্মসূচি শুরু শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। গতকাল রবিবার বিকেলে ‘আন্দোলনের বাতিঘর’ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর নূর কমিউনিটি সেন্টারে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীতে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আমাদের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সভায় ৪০ জন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং ৮০ জন আহত ব্যক্তি অংশ নেন। তারা অতিদ্রুত পুনর্বাসন, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি এবং এসব দাবি আমরা সরকারের কাছেও জানিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত গণহত্যার বিচার শুরু হয়নি। সরকারের কাছে আহ্বান, যারা গণহত্যা করেছে, গুলি করেছে, যারা হুকুম দিয়েছে, আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যেকের যেন শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। সরকারের মূল দায়িত্ব শহীদ পরিবার এবং আহতদের পুনর্বাসন করা, সেটা এখনো পর্যন্ত যথাযথভাবে হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।’ এ ছাড়া আজ সোমবার বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ছয় বছরপূর্তি উপলক্ষে বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর পলাশী মোড়ে তার স্মৃতির উদ্দেশে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আখতার হোসেন।
কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ‘যে দাবিতে আমাদের ভাইবোনরা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন সেটি হলো এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ করা। সেটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। সে ব্যবস্থা বিলোপ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। যারা শহীদ হয়েছে তাদের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক পরিবেশ আমরা এখনো উপহার দিতে পারিনি। সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।’
নাগরিক কমিটি সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, হাজারীবাগসহ যেসব স্থানে তীব্র আন্দোলন হয়েছে, সেখানে মতবিনিময় সভা করবে সংগঠনটি। এর মধ্য দিয়ে ঢাকার ৫২টি থানায় কমিটি দেওয়া হবে।
নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘নাগরিক কমিটি ঢাকার ৫২টি থানায় প্রতিনিধিত্বমূলক কমিটি গঠন করবে। ছোট ছোট করে এসব প্রোগ্রামের পর আমরা কমিটি করব। কমিটিতে আমরা চেষ্টা করব শহীদ এবং আহতদের পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করতে। এ ছাড়া আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং থানার সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যেসব তরুণ জড়িত, আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করছি।’
