নেইমারকে ঢাকায় আনবেন বাংলাদেশের রবিন

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:১৫ পিএম

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে হঠাৎ আলোচনায় আসেন রবিন মিয়া। চাউড় হয়, তিনি ব্রাজিল তারকা নেইমার জুনিয়রের বন্ধু। কাতারে নেইমারের পরিবারের সঙ্গী হয়ে উপভোগ করেছেন বিশ্বকাপ। সেই সুবাদেই নজরে আসেন তিনি। নেইমারের পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের জোড়ে গত বছর উদ্যোগ নিয়েছিলেন এ দেশের ব্রাজিল ভক্তদের সামনে বিশ্ব তারকাকে নিয়ে আসার। তবে স্পন্সরের সঙ্গে ব্যাটে বলে হয়নি বলে সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। তবে এবার রবিন ভীষণ আত্মবিশ্বাসী স্বপ্ন পূরণে। জানালেন আগামী বছর যে কোন অনুকূল সময়ে ঢাকায় আসবেন আল হিলাল তারকা।

তিন দিন আগে ব্রাজিল থেকে ঢাকায় এসেছেন রবিন। উদ্দেশ্য নেইমারের ঢাকা সফর নিশ্চিত করতে স্পন্সরের সঙ্গে বৈঠক। সেই আলোচনা শেষে তিনি দিলেন সুসংবাদ। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে আগামী বছর শুরুতেই পুরো একদিনের জন্য ঢাকায় সময় কাটাবেন নেইমার। 

এর আগে ভারতীয় শতদ্রু দত্তের মাধ্যমে ঢাকায় ঘুড়ে গেছেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও ২০০৫ ব্যালন ডি’অরজয়ী ব্রাজিল মহাতারকা রোনালদিনহো। যদিও এই দুই তারকার ঢাকা সফর নিয়ে প্রশংসার চেয়ে হয়েছে বেশি সমালোচনা। দু’জনকেই বাক্সবন্দী করে রেখেছিল তাদের সফর স্পন্সর করা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এ দেশের মানুষের আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নিয়ে সত্যিকারের উন্মাদনাটা অজানাই থেকে যায় তাদের। রবিন অবশ্য নেইমারকে সত্যিকারের অনুভূতিটা দিতে চান ঢাকায় এনে।

নেইমারের সঙ্গে রবিন

তার আগে এই রবিনকে নিয়েও অনেকের মনে থাকতে পারে প্রশ্ন। একজন প্রবাসী বাংলাদেশী কী করে এত বড় তারকাকে ঢাকায় আনবেন? কেনই বা মানুষ তাকে বিশ্বাস করবে? রবিন দেশ রূপান্তরকে তারই একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ‘আমি খুব গরীব ঘরের সন্তান। জীবিকার সন্ধানে ১৭ বছর আগে ব্রাজিলে গিয়েছিলাম। চার বছর আগে আমার এক ব্রাজিলিয়ান বন্ধুর মাধ্যমে নেইমার সিনিয়রের সঙ্গে সাক্ষাত হয়। এরপর থেকে আমি নেইমার সিনিয়রের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছি। এই কাজের সুবাদে সাও পাওলোতে তার দেওয়া একটা ফ্ল্যাটে আমি আমার পরিবার নিয়ে থাকি। অনেকেই দেখেছি আমাকে নেইমার জুনিয়রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। বিষয়টি ঠিক নয়। চার বছরের পরিচয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়া যায় না। এটা ঠিক, নেইমার যখন ছুটিতে ব্রাজিলে আসেন, তখন তার সঙ্গে সময় কাটাই। প্যারাগুয়ে কিংবা সৌদি আরবেও তার সঙ্গে বিভিন্ন কাজের সুবাদেই দেখা হয়, কথা হয়।‘ বিশ্বকাপ চলাকালীন নেইমারের পরিবারের সঙ্গী হওয়া, নেইমারের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা তার বাবার ব্যক্তিগত সহকারীর দায়িত্ব পালনের পর নিশ্চয় রবিনকে নিয়ে আর প্রশ্ন থাকবে না? 

তো, সেই রবিনই জানালেন নেইমালকে ঢাকায় আনার ব্যাপারে তার পরিকল্পনার কথা, ‘আমি এবার ঢাকায় এসে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এরপরই তার আসার বিষয়টি ঘোষণা করেছি। আপনি বলতে পারেন নেইমার ঢাকায় আসবেনই। তবে ঠিক কখন আসবেন সেটা নির্ভর করছে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর। দেশে একটা বড় পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা নিয়ে কিছু ব্যাপার এখনও আছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কাছ থেকে সম্মতি এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চয়তা পেলেই নেইমারকে ঢাকায় আনা হবে। পাশাপাশি বলতে পারি, নেইমারকে অবশ্যই এ দেশের ব্রাজিলভক্তদের সামনে আনা হবে যাতে কারো মনে কোন অতৃপ্তি না থাকে।‘

আ্গের তীক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই রবিন এখনই নেইমারের ঢাকা সফর স্পন্সর করতে সম্মতি দেওয়া প্রতিষ্ঠানের নামটি প্রকাশ করেননি। পাশাপাশি নেইমার কিংবা নেইমার সিনিয়রের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক আছে বলে নিজেকে অনেক বড় কিছুও মনে করছেন না রবিন, ‘কঠোর পরিশ্রম করে আমি আজ একটা পর্যায়ে আসতে পেরেছি। নেইমারের বাবার সঙ্গে কাজ করতে পারছি এটা আমার জন্য বড় একটা প্রাপ্তি। তবে আমার নেইমারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে আমি গর্বিত নই। আমি সেদিনই গর্বিত হবো, যেদিন আমার দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো।‘

আল হিলালে অনুশীলনে নেইমার জুনিয়ার। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ফুটবল ক্লাবের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন রবিন। পাশাপাশি ফুটবলারদের এজেন্টের ব্যবসাও রয়েছে। এগ্রো ব্যবসা তার মূল জীবিকা হলেও নেইমার সিনিয়রের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে রবিন ফুটবলের সঙ্গেও ভীষণভাবে জড়িত, ‘আমার কাছে ফুটবল নিয়ে অনেক প্রোজেক্ট রয়েছে। কারণ কনমেবল ও ফিফার অনেক শীর্ষ কর্তার সঙ্গে আমার বেশ ভালো সম্পর্ক। এই সম্পর্কগুলো কাজে লাগিয়ে দেশের ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।‘

জীবিকার তাগিদে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের রবিনকে দেড় দশকের বেশি সময় আগে নিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলে। ভাগ্যই আজ তাকে নেইমারের পরিবারের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনিও চাইছেন নেইমারের সামনে নিজ দেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসাটা ফুটিয়ে তুলে দেশেরই সুনাম বাড়াতে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত