দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে। তবে আগামী অর্থবছরেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হবে। মূলত রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লাগবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়বে। সেই সঙ্গে দেশের আমদানি পরিস্থিতিও স্থিতিশীল হচ্ছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) লিমিটেড।
এইচএসবিসি আয়োজিত ‘নেভিগেটিং বাংলাদেশেস ক্রসরোডস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল রিসার্চ এশিয়ার সহ-প্রধান ফ্রেডেরিক নিউম্যান বলেন, বিশে^র বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি উন্নতির কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়বে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়লে বাংলাদেশের অনেক পরিবারের ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়বে, বৃহত্তর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এইচএসবিসির এশিয়া অঞ্চলের সহ-প্রধান আরও বলেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহের কারণে মানুষের পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ সুবিধাজনক হবে ঠিক, বৃহত্তর পরিসরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আশাপ্রদ হবে, কিন্তু মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা চ্যালেঞ্জিং হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে গৃহস্থালি ও ব্যবসার খরচে প্রভাব পড়বে। সেই সঙ্গে তার মত, বাংলাদেশের পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। এর জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
ওয়েবিনারে নিউম্যান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথেই আছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি এমনিতে বেশ শক্তিশালী; সেই সঙ্গে সম্প্রতি সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার কল্যাণে পরবর্তী অর্থবছরে বাংলাদেশ স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অর্জন করতে পারবে। সংস্কার কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন এ প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
