বাফুফে নির্বাচন: ‘চেনা’ তাবিথ ‘অচেনা’ মিজানুর!

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন তাবিথ আউয়াল। বাফুফের দুই মেয়াদের সহ-সভাপতির হয়ে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র কিনেছেন নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও আগের দিন নির্বাহী সদস্য পদে মনোনয়নপত্র নেওয়া সাখাওয়াৎ হোসেন ভুঁইয়া শাহীন। তাবিথের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিনে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সভাপতি পদে নির্বাচন করার আগ্রহ দেখিয়েছেন এক অচেনা ব্যক্তি। দিনাজপুরের তৃণমূল ফুটবল নিয়ে কাজ করা বর্ষীয়ান কোচ এএসএম মিজানুর রহমানের হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার ভাতিজা আব্দুল ওয়াজেদ সোহাগ। বিতরণের দ্বিতীয় দিনে দুইজন সভাপতি প্রার্থীসহ মোট পাঁচটি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে বিক্রি হলো ৩০টি মনোনয়নপত্র। আগামী শনিবার মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিন।

তাবিথের জন্য অপেক্ষা ছিল প্রথম দিনের শুরু থেকেই। আগের দিন জানিয়েছিলেন প্রথমদিনেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার কথা। তবে আসছে নির্বাচনে তার সহযাত্রী হতে যাওয়া অনেকেই মনোনয়নপত্র কিনলেও তাবিথ নিলেন বৃহস্পতিবার। সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিলে কাজী সালাউদ্দিন বিহীন এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনিই ফেভারিট এখন পর্যন্ত। রাজনৈতিক পালাবদলের কারণেই হঠাৎ পাদপ্রদীপর আলোয় চলে এসেছেন তরুণ এই ক্রীড়া সংগঠক, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ২০১২ ও ২০১৬ সালে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে বাফুফের সহ-সভাপতি হয়েছিলেন। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে একই পদে উপ-নির্বাচনে হেরে যান। শেষ চার বছর ফুটবলকে কিছুটা দূরেই ছিলেন তাবিথ।

যদিও তার মালিকানাধীন নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব নিয়মিতই খেলেছে মাঝারি স্তরের লিগগুলোতে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে অবসান ঘটে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের রাজত্ব। এর কিছুদিন পর বাফুফের চার মেয়াদের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সরে দাঁড়ান ২৬ অক্টোবরের নির্বাচন থেকে। এরপর থেকে আলোচনা কে ধরবেন দেশের ফুটবলের হাল। সালাউদ্দিনের ঘোষণার পরের দিন প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কর্ণধার ও ব্যবসায়ী তরফদার রুহুল আমিন। তবে ঘোষণা দিয়েই যেন নিজের সর্বনাশ ডেকে আনেন আওয়ামী সরকারের আমলে কয়েকটি সমুদ্র বন্দরে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠা পাওয়া রুহুল আমিন। বিশেষ করে তাবিথ আউয়াল সভাপতি পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে নানামূখী চাপ আসতে থাকে রুহুল আমিনের ওপর। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ময়দান ছাড়ার ঘোষণা আসেনি রুহুল আমিনের দিক থেকে। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু খবর তাতে তাকে নাও দেখা যেতে পারে তাবিথের বিরুদ্ধে।

 

রুহুল আমিন দোলাচলে থাকলেও হুট করে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনে বৃহস্পতিবার আলোচনায় চলে আসেন অখ্যাত মিজানুর রহমান। তার প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র কেনার পর থেকেই শুরু হয় এই ব্যক্তির খোঁজ। পরে খবর নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দিনাজপুরে ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করছেন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে পরিচিত ৭০ বছরের মিজানুর। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বীর উত্তমের ছোট ভাই মিজানুর রহমান। ভাইয়ের নামে একটি ফুটবল অ্যাকাডেমি পরিচালনা করছেন ধীর্ঘদিন যাবত। এছাড়া স্থানীয় লিগে তার একটি ক্লাব দলও রয়েছে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের চাকুরিও ছেড়েছিলেন মিজানুর। তার প্রতিনিধি সোহাগ জানান, ‘চাচার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল বাফুফে নির্বাচনে অংশ নিবেন এবং করলে সভাপতি পদেই নির্বাচন করবেন।

তার বিশ্বাস, ভোটাররা যদি তার ওপর আস্থা রাখেন তবে তিনি দেখিয়ে দিতে চান, আন্তরিকতা থাকলে দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।‘ মিজানুর রহমান দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে ভীষণ পরিচিত মুখ। প্রতি নির্বাচনেই তিনি প্রার্থী হন এবং বিজয়ী হতে ব্যর্থ হন। এর কারণ হিসেবে সোহাগ বলেন, ‘চাচার কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তবে ফুটবলের ব্যাপারে তিনি অন্ধ। তার হাত ধরে হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস, মজিবুর রহমান জনির মতো জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ফুটবলার উঠে এসেছে। রাজনৈতিক পরিচয় নেই বলেই তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেন না। তবে প্রতিবারই তিনি চেষ্টা করেন।‘

দ্বিতীয় দিনে তাই চমক বলতে অখ্যাত মিজানুরের সভাপতি হওয়ার বাসনা। এদিন তিনজন নির্বাহী সদস্য পদে নিয়েছেন মনোনয়নপত্র। তারা হলেন- দিপালী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আজম ভুঁইয়া, উত্তর বারিধারা ক্লাবের সভাপতি শরিফ উদ্দিন ও নবাবপুর ক্রীড়া চক্রের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত