ছাত্রদল নেতার মামলায় আসামি ক্যাম্পাসে না থাকা ছাত্রলীগ নেতারা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৩২ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের ১০১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন শাখা ছাত্রদলের এক নেতা। এতে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মাদ আহসান হাবিব বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলাটি করেন।

অভিযোগ উঠেছে, দেড়-দুই বছর আগে যে ছাত্রলীগ নেতারা ক্যাম্পাস ছেড়েছেন, এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, তাদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

তবে এই মামলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে করা হয়নি বলে জানিয়েছে শাখা ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা। তিনি বলছেন, ‘বিগত সময়ে যারা ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে তারা চাইলে ব্যক্তিগতভাবে মামলা করতে পারে এমন অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

মামলার বাদী আহসান হাবিব বলছেন, ‘কেউ যদি নির্দোষ হয়, সেটি আদালতে প্রমাণ করবে।’

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিগত সরকারের আমলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন। এমনকি চাপ প্রয়োগের একপর্যায়ে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেন। গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের অবৈধ বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি ও হুমকি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনের কর্মসূচি পালনের জন্য সমবেত হন।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল শাখার সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি ঘোষণার কিছুদিন পর থেকেই হলের শীর্ষ নেতাদের অনেকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে থাকেন। এ সময় শীর্ষ পদ না পেয়ে অনেক নেতা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। গত মে মাসে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে সহসভাপতি শাহিনুল ইসলাম সরকার ডন, যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ মোর্শেদ, আশিকুর রহমান অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাব্বিরুজ্জামান রুহুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের নামও মামলায় এজাহারভুক্ত হয়েছে।

তাদের মধ্যে, শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মেসবাহুল ইসলাম ক্যাম্পাস ছেড়েছেন নতুন কমিটি হওয়ার পরই। একই সময়ে কাক্সিক্ষত পদ না পেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন সহসভাপতি জাকিরুল ইসলাম জ্যাক। ছয় মাস ধরে একটি এনজিওতে চাকরি করছেন গত কমিটির দপ্তর সম্পাদক আবুল বাশার আহম্মেদ। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে দুই বছর ধরে চাকরি করছেন শেরেবাংলা ফজলুল হক হলের সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন খান। একই হলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রাতুল ব্যবসা করছেন দীর্ঘদিন ধরে। চাকরির উদ্দেশ্যে বছরখানেক আগে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন আমীর আলী হলে সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ। এ ছাড়া রাজিব হোসেন, শেখ কামাল বিন হারুন সিয়াম, রেজা সাফায়েত প্রিন্স ২০২২ সালের ১৪ মার্চ হল কমিটি হওয়ার কিছুদিন পরই তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। এ রকম অনেক নেতা আছেন, যারা আন্দোলনের অনেক আগেই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন। তবুও ছাত্রদলের মামলায় আসামি হয়েছেন তারা।

ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন আগেই পড়াশোনা শেষ করে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিজের কর্মস্থল বা বাড়িতে অবস্থান করেছেন। অনেকে আবার আন্দোলনের সময় ছাত্রদের পক্ষ নিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবুও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন, ‘আন্দোলনে থাকা আমাদের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেই দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কেউ যদি নির্দোষ হয়, তবে সেটি কোর্টে প্রমাণ হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিগত সময়ে যারা ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রলীগের দমননিপীড়নের শিকার বা হামলার শিকার হয়েছে তারা চাইলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে ওই ছাত্রলীগ নেতা বা জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। এটা দলীয়ভাবে করা কোনো মামলা না। আমরা দলীয়ভাবে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর এই মামলা এখন পর্যন্ত আমি পড়ে দেখিনি। যে মামলা করেছে সে ভালো করে বলতে পারবে কেন সে মামলা করেছে।’

মতিহার থানার ওসি মো. আবদুল মালেক বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা আহসান হাবিব বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ১০১ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০ থেকে ২২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লিখিত সবাই যে দোষী হবে, তেমন নয়। নির্দোষ অনেকেই থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করব এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে যদি কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত