আয়করমুক্ত সুবিধা ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৪, ১২:১৬ এএম

আবারও আয়করমুক্ত সুবিধা ফিরে পেয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত আয়করমুক্ত সুবিধা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি বছর গ্রামীণ ব্যাংককে শুধু আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া বহুল আলোচিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দান করা অর্থের ওপরও আয়কর দিতে হবে না বলে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গ্রামীণ ব্যাংক কর অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছিল। গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩ বাতিল করে সরকার যখন ২০১৩ সালে আইন করে, তখনো বহাল রাখা হয় এ সুবিধা। কিন্তু ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সুবিধাটি হঠাৎ বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, নামে ব্যাংক হলেও গ্রামীণ ব্যাংক বাস্তবে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমও পরিচালনা করে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) থেকে নিবন্ধন নেওয়া সব ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানই আয়করমুক্ত। বিশেষ আইনে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে এমআরএ থেকে নিবন্ধন নেওয়ার দরকার নেই। তবে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য এমআরএর প্রতিষ্ঠানগুলোর মতোই। ফলে আয়কর অব্যাহতি পাওয়াটা গ্রামীণ ব্যাংকের ন্যায্য, যা আগে ছিলও। কর আরোপের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে তা অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও কর অব্যাহতি সরকার দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

এদিকে শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত এ দাতব্য প্রতিষ্ঠান আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দান করা অর্থের ওপরও ২০২৯ সাল পর্যন্ত আয়কর দিতে হবে না বলে ভিন্ন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর ধরে বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে আলোচনায় আসে। ২০২০ সালের করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ও সংগঠনটি দাতব্য কার্যক্রম করে প্রশংসিত হয়। ২০২২ সালে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে প্রবল বন্যা এবং চলতি বছরের আগস্টের বন্যায় সংগঠনটি ব্যাপক মাত্রায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত