কুমিল্লার বাসিন্দা এয়াকুব আলী। বর্তমানে সংসার খরচ নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। পরিবারে ৬ সদস্য নিয়ে নগরীর শাসনগাছা এলাকায় তার বসবাস। মাস শেষে যা বেতন পান, তা দিয়ে সংসার চালাতেন কোনোভাবে। বর্তমানে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের মিল পাচ্ছেন না। দিন যত যাচ্ছে, খরচ তত বেশি হচ্ছে। শাকসবজির দাম লাগামহীন হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে মুরগির মাংস ও ডিম ঝুঁকছেন তিনি।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে কুমিল্লা নগরের পাঁচটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১০০ টাকার নিচে তেমন কোনো সবজি নেই। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বলা চলে কুমিল্লার কাঁচাবাজারে শাকসবজির দাম নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নাগালের বাইরে।
নগীরর রাজগঞ্জ, চকবাজার, নিউমার্কেট, মগবাড়ি ও রানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণহীন। শিম প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ধনেপাতা প্রকার ভেদে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল আর ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। বেগুন ১০০ থেকে ১১০ আর গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা, ফুলকফি প্রতি কেজি ২৪০ টাকা থেকে ২৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়।
এ বিষয়ে রাজগঞ্জ বাজারে থেকে সবজি নিতে নগরের বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত সপ্তাহে শিমের দাম ছিল ১৬০ টাকা আর এখন ৩০০ টাকার ওপরে। গোল বেগুন ছিল সর্বোচ্চ ৮০ টাকা এখন সেই বেগুন ১৬০ টাকা। দুই–তিনটি সবজি ছাড়া এক শ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। ৬০-৭০ টাকার ঢ্যাঁড়স এখন ১২০ টাকা। কয়েক দিন আগেও পুঁইশাকের আঁটি ছিল ৩০ টাকা। এখন বেশির ভাগ দোকানে পুঁইশাকের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, তবে বাজার নিয়ে সিন্ডিকেট করা ব্যক্তিদের পতন হয়নি।
নগরের মগবাড়ি বাজার এলাকার সবজি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আট বছর ধরে এখানে ব্যবসা করি, কিন্তু সবজির এত দাম কখনো হতে দেখিনি। আমরা কম দিয়ে সবজি কিনলে, কম দামে বিক্রি করতে পারতাম।
ওই বাজারের ক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা আগে মাছ, মুরগি না কিনে শাকসবজি বেশি কিনত। এখন তো দেখছি মাছ ও মুরগির চেয়ে সবজির দাম বেশি।’
অনেক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, অন্যান্য নিত্যপণ্যের মতো শাকসবজির বাজারও এখন শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং না হওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ কুমিল্লা নগরের কাঁচাবাজারগুলোয় অধিকাংশ শাকসবজি আসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার থেকে। নিমসার দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজির বাজার। কুমিল্লা নগর থেকে নিমসারের দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। নিমসার থেকে পাইকারি কিনে আনা অনেক সবজি দ্বিগুণ দামেও কুমিল্লা নগরের বাজারগুলোয় খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে। এতে বারোটা বাজছে ক্রেতাদের।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, কাঁচা বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। বন্যাসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির দাম এত বেড়েছে বলে বিক্রেতারা দাবি করছেন। এরপরও কেউ দাম বেশি রাখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলার জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রেজা শাহবাজ হাদী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইন তদারকি এবং পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। বেশি দামে সবজি বিক্রি করলে জরিমানাও করা হবে।
ড. ইউনূসের পরিকল্পনায় বিপিএলে আসছে 'নতুনত্ব'
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা
কুমিল্লার যেসব এলাকায় ৩৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না