সত্যি সত্যিই রাজত্ব হারালেন বাবর

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ০২:১৪ এএম

দুই বছর আগে বাবর আজম ছিলেন ক্রিকেট বিশ্বের শীর্ষে- পাকিস্তানের অধিনায়ক এবং তিন ফরম্যাটের সেরা ব্যাটসম্যান। কিন্তু কাল মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুলতানে পাকিস্তান যখন দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে, ৩০তম জন্মদিন ঘরে বসেই উদযাপন করতে হবে তাকে। কারণ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের শেষ দুই টেস্টের স্কোয়াড থেকে বাবর বাদ পড়েছেন। ২০১৬ সালে অভিষেকের পর পাকিস্তানের খেলা ৬০ টেস্টের ৫৫টিই খেলেছেন বাবর। যে পাঁচটি খেলতে পারেননি, তা চোটের কারণে। অর্থাৎ এই প্রথম পড়তি পারফরম্যান্সের কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লেন বাবর আজম। সর্বশেষ ১৮টি টেস্ট ইনিংসে পঞ্চাশ রানও করতে পারেননি তিনি।

বাবর ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে সিরিজে টানা তিনটি সেঞ্চুরি করে দারুণ আলোচনায় আসেন। পাঁচ বছর পর তিনি ভারতের কিংবদন্তি বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বর ওয়ানডে ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান। মাঝে সাময়িকভাবে সেই অবস্থান হারালেও এখনো সেই স্থানটি ধরে রেখেছেন তিনি।

বাবর এখনো টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। তবে লাল বলের ক্রিকেটে তার ফর্ম সবচেয়ে বেশি ভুগেছে এবং তার পড়তি পারফরম্যান্সের ফলে তিনি বিশ্বের সেরা ১০ ব্যাটসম্যানের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

১৩ বছর বয়সে বাবর লাহোরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্টে বল বয়ের কাজ করছিলেন, যেখানে তিনি তার শৈশবের আদর্শ এবি ডি ভিলিয়ার্সকে দেখার সুযোগ পান। লাহোরের রাস্তায় খেলা শুরু করে তিনি ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং ছয় ম্যাচে ২৯৮ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।

দুই বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনি পাকিস্তান দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং ২৮৭ রান করে আবারও দলের শীর্ষ ব্যাটসম্যান হন।

২০১৫ সালে তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পান এবং সাদা বলের ফরম্যাটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিন ফরম্যাটেই আধুনিক ক্রিকেটের একজন গ্রেট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অনেকেই তাকে কোহলির সঙ্গে তুলনা করতে থাকেন।

চাপের প্রভাব : টি-টোয়েন্টিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৭০ ইনিংসে ৩২৬৮ রান করেছেন বাবর, যা এই ফরম্যাটে কোনো জুটির সর্বোচ্চ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর পেছনে বড় ভূমিকা তার।

২০২২ সালে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত বোলিং আক্রমণÑমিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, নাথান লায়নের বিপক্ষে তার ১৯৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে প্রশংসিত হয়।

তবে এক ধাক্কায় নেতৃত্বের চাপ তার ব্যাটিং ফর্মের ওপর প্রভাব ফেলে। গত বছর ভারতে অনুষ্ঠিত ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে পাকিস্তানের বিদায়ের পর, আফগানিস্তানের কাছে প্রথমবারের মতো পরাজিত হওয়ার পরে, বাবর তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নেতৃত্ব আসার পর তাকে আবার সাদা বলের অধিনায়ক করা হয়। কিন্তু সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আয়ারল্যান্ডের কাছে একটি টি-টোয়েন্টি হারের পর এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তিনি পুনরায় সাদা বলের অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।

তবে টেস্টেই তার ফর্ম সবচেয়ে বেশি ধসে পড়ে, এবং গত মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে তার পারফরম্যান্স খুবই দুর্বল ছিল; চার ইনিংসে মাত্র ৬৪ রান করেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মুলতানে প্রথম টেস্টে ব্যর্থতার পর নতুন নির্বাচক প্যানেল গঠিত হয় পাকিস্তানের, যেখানে আছেন তার দুই সাবেক সতীর্থ- আজহার আলি, আসাদ শফিক, আকিব জাভেদ আর বহু ম্যাচের আম্পায়ার আলিম দার। রবিবার এক বৈঠকে অধিনায়ক শান মাসুদ ও কোচ জেসন গিলেসপি বাবরকে সমর্থন দিলেও, বাকিরা বাবরকে বিশ্রাম দেওয়ার রায় দেন। পরে গিলেম্পির সঙ্গে আবেগপূর্ণ আলোচনার পর বাবর লাহোরে তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ক্রিকেট থেকে বিরতিতে বাবর মানসিক, শারীরিক এবং আবেগিক ধকল সামলে উঠতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচক আকিব জাভেদ বলেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এই বিরতি বাবরসহ অন্য খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।’ সত্যিই কি বাবর আজম আবার তার জায়গায় ফিরতে পারবেন?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত