দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে চোখ ট্রাম্প-কমলার

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:০৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে বাজছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দামামা। আসন্ন নির্বাচনে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দৌড়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে নির্বাচন পূর্ব জরিপগুলো। বরাবরের মতো এবারো দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পাখির চোখ পড়েছে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোকে। এই সাত রাজ্যের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে নির্ধারণে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তার করবে। দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে দুই প্রার্থী লড়ছেন সমানে সমানে। জনসমর্থনে কোথাও কমলা এগিয়ে, আবার কোথাও এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। তবে এর ব্যবধান খুবই সামান্য হওয়ায় রাজ্যগুলোতে জয়ের পাল্লা যে কারও দিকে হেলে পড়তে পারে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এবার দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভানিয়া সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের কাছে টানতে রাজ্যটিতে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন কমলা-ট্রাম্প উভয়ই।

গত সোমবার দুই প্রার্থী পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন। রাজ্যটির এরি শহরে এক সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে কমলা বলেন, দ্বিতীয়বার ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকির। একই সঙ্গে এটি বিপজ্জনকও। একই সঙ্গে ট্রাম্পকে ‘অস্থির ও অনির্ভরযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন কমলা। জাতিগত বিদ্ধেষ ও অভিবাসীদের অসম্মানজনক বাক্যবাণে বিদ্ধ করায় ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগে কমলার পক্ষে প্রচারে নামেন ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং বিল ক্লিন্টন। গত রবিবার আরেক দোদুল্যমান রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনায় প্রচার চালান কমলা হ্যারিস। সম্প্রতি হারিকেন হেলেনের আঘাতে বিপর্যস্ত রাজ্যেটি। নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিন চার্চে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সেখানে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছিলেন কমলা।

এদিকে, ফিলাডেলফিয়ার শহরতলি ওকসে কটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেন ট্রাম্প। ওকস টাউন হলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে কমলাকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, আমাদের কিছু অসুস্থ লোক আছেন, যারা মৌলবাদী বামপন্থি উন্মাদ। প্রয়োজন পড়লে সামরিক বাহিনী বা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্তরা খুব সহজে তাদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছিলেন সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান গভর্নর ক্রিস্টি নোয়েম। এর আগে, অ্যারিজোনায় নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসী ইস্যুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজার সীমান্তরক্ষী নিয়োগ দেবেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের ভেতরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।

তবে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে জরিপগুলোতে কমলার সঙ্গে ব্যবধান অনেকটাই কমিয়েছেন ট্রাম্প। যা কপালের ভাঁজ বাড়াচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের। সাম্প্রতিক জরিপগুলোয় দেখা গেছে, সাতটি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যেই কমলা ও ট্রাম্পের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। তবে ট্রাম্পের তীব্র অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের পরও, কমলা লাতিন ভোটারদের নিজ বলয়ে টানতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জরিপে দেখা গেছে। অতীতে লাতিন ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্রেটির প্রার্থীদের প্রতি যে সমর্থন ছিল, কমলার ক্ষেত্রে তা অনেক কম। তবে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে কমলার প্রতি সমর্থন বেশি। তবে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের সমর্থনে আবার এগিয়ে আছেন ট্রাম্প।

তবে আসন্ন নির্বাচনে দুই প্রার্থীর কাউকেই ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আরব আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি। সবশেষ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরব ও মুসলিমরা। তবে গাজা ও লেবানন যুদ্ধে সমর্থনের কারণে তাদের ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দেয় ডেমোক্র্যাট ঘেঁষা সংগঠনটি। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এবারই প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না দেওয়ার কথা জানাল তারা। আর অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য এবং ক্ষমতাকালীন সময়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ নানা বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতি মুসলিম ভোটারদের সমর্থন নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, আরব ও মুসলিম আমেরিকানরা ভোট না দিলে নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের জয়ের সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত