কারও ক্ষতি করা যাবে না অন্যায়ে জড়ানো যাবে না

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:০৪ এএম

মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী দেশের আলোচিত একজন মুফাসসিরে কোরআন ও ধর্মীয় আলোচক। প্রায় ৮ বছর ধরে খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন খিলগাঁও ঈদগাহ জামে মসজিদে। পরিচালনা করছেন জামিয়া আশরাফিয়া দারুল উলুম, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তরুণ সমাজকে মসজিদমুখী করারসহ নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান আল মামুন

দেশ রূপান্তর : ৮ বছর ধরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কেমন দেখছেন এলাকাবাসীকে?

মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী : আল্লাহর ঘরে খেদমত করতে পারাটা বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার। এলাকার মানুষ ধর্মপ্রাণ। তারপরও আরও বেশি মানুষকে কীভাবে মসজিদমুখী, আখেরাতমুখী ও আল্লাহমুখী করা যায় সে বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করে থাকি। ফলে তাদের মধ্যে সুন্দর জীবন গঠন, মানবতাবোধ, পারস্পরিক সম্পর্ক সুন্দর করা, প্রতিবেশীর হক আদায়সহ নানা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে ও হচ্ছে। আশা করি আরও পরিবর্তন হবে। আমি সাধারণত জুমার খুতবায় সব সময় সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা করি। দেশীয় কিংবা বৈশ্বিক বিষয়ে মুসলমানকেন্দ্রিক কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি তুলে ধরি। কোরআন ও হাদিসের আলোকে সুন্দর জীবনযাপনের পদ্ধতির কথা বলি। সব মসজিদের মুসল্লিরা চান, জুমার খুতবায় ইমাম সাহেব এমন বিষয়ের আলোচনা করুক, যেটা তাদের জীবনের পাথেয় হবে। আমি সে রকমই চেষ্টা করি। প্রচুর মানুষ এ মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন, এ মসজিদকে প্রিয় মনে করেন। মসজিদ কমিটি মসজিদের নিরাপত্তা এবং পরিচালনা ব্যবস্থা এত সুন্দর করে রেখেছেন যে, মুসল্লিরা খুশি। সবমিলিয়ে ভালোই চলছে।

দেশ রূপান্তর : আদর্শ সমাজ গঠনে একজন খতিবের কী কী ভূমিকা থাকতে পারে?

মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী : এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সমাজ যদি সঠিক পথ পেয়ে যায়, সমাজের মানুষ যদি সঠিক পথে চলে, তাহলে সমাজ থেকে অন্যায় ও অবিচার দূর হবে। সমাজে যারা বসবাস করে অর্থাৎ নারী-পুরুষ সবাইকে আদর্শিক ও সভ্য সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে, সে মুসলিম বা অমুসলিম হোক। কারও ক্ষতি করা যাবে না। অন্যায়ে জড়ানো যাবে না। খতিব হিসেবে এ বিষয়গুলো সমাজের অভিভাবক ও মানুষকে বোঝাতে হবে। একটি কল্যাণকামী ও আদর্শ সমাজ গঠনে কোরআন ও হাদিসের দিকনির্দেশনা বোঝাতে হবে।

দেশ রূপান্তর : জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার ক্ষেত্রে খতিবের কী কী গুণ থাকা দরকার বলে মনে করেন?

মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী : একজন খতিব যদি নিজের অবস্থানে থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, মুসল্লিদের নিয়ে চিন্তা করেন, তাদের আল্লাহমুখী করার চেষ্টা করেন, সুন্দর জীবনব্যবস্থা গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখেন, ইসলামি চিন্তা-চেতনায় তাদের গড়ে তোলেন, তাহলে একজন খতিব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজে ভালো অবস্থান নিতে পারবেন। কোরআন ও হাদিসের আলোকে মুসল্লিদের সামনে বিষয়ভিত্তিক কথা বললে মুসল্লি বা কমিটির লোকেরা খতিবের বয়ানের বিরোধিতা করে না বা প্রতিবাদ করে না। এভাবে কাজ করলে একজন খতিব সবার আস্থা অর্জন করতে পারবেন। সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে পারবেন।

দেশ রূপান্তর : তরুণ সমাজকে মসজিদমুখী করার ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী : তরুণদের যদি কোরআন ও হাদিস বোঝানো যায়, সঠিকভাবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে তারা বিশুদ্ধ সমাজ গঠনে বড় অবদান রাখবে। তাদের মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও খারাপ কাজ দূর হবে। সমাজ ও দেশ আলোয় আলোয় ভরে উঠবে। পৃথিবীর ইতিহাসও এমন।

দেশ রূপান্তর : আপনি তো একজন বক্তা, ওয়াজে কোন বিষয় প্রাধান্য দেন?

মাওলানা আবুল কাশেম আশরাফী : একজন ওয়ায়েজ হিসেবে ইসলামের সৌন্দের্যের কথাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি। তরুণ ও যুবকদের ইসলামের পথে চলতে উদ্ধুদ্ধ করি। রাসুল (সা.)-এর আদর্শের কথা বলে, আখেরাতের পুরস্কারের কথা বলে, তাদের ইসলাম মানতে উৎসাহ দিই। সুদ, ঘুষ, যৌতুক, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলি। সমাজের অসংগতিগুলো তুলে ধরি। ইসলামের ইতিহাসে যুবক ও তরুণদের কী অবদান ছিল, সেগুলো বলি। লক্ষ্য একটাই, তাদের মসজিদমুখী করা, ইসলামমুখী করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত