এমপিওভুক্তির দাবি

শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত অনেক

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:১০ পিএম

এমপিওভুক্তির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো মাউশির সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষকদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে পুলিশ। এ সময় লাঠিচার্জ ছাড়াও জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা এমন অভিযোগ করেছেন। শিক্ষকদের ওপর এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, সচিবালয়ের সামনের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে জনভোগান্তি করায় তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ধরনের হামলা করা হয়নি।

গত মঙ্গলবার থেকে এমপিওভুক্তির দাবিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করে আসছেন বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থানকালে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। পুলিশের লাঠিচার্জে অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ছাড়া অনেক শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তারা আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে পারেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স ফেডারেশনের সভাপতি নেকবর হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থানকালে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে অতর্কিতভাবে হামলা করে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের কারণে অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তারা ভয়ে কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে পারেন। শিক্ষকরাদের সরিয়ে দেওয়া হলে তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে। শিক্ষকদের ওপর এমন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

সরেজমিন দেখা যায়, বিকেলের দিকে শিক্ষকরা অবস্থানকালে শতাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে হাজির হয়ে তাদের চলে যেতে বলেন। এ সময় শিক্ষকরা যেতে না চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। তখন শিক্ষকরা প্রতিহত করতে গেলে জলকামান দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হয় এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের লাঠিচার্জে অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। কারও কারও শার্ট ও প্যান্ট ছিঁড়ে গেছে। এক পর্যায়ে তারা জায়গা ছেড়ে চলে যান।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর বলেন, শিক্ষকরা সচিবালয়ের সামনের রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করেন। এতে ওই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তবে লাঠিচার্জ বা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়নি। সন্ধ্যার আগেই শিক্ষকরা চলে গেলে যানচলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত