নকল সিগারেট তৈরি

সাবেক প্যানেল মেয়রের গোডাউন থেকে বিপুল ব্যান্ডরোল উদ্ধার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৪৯ এএম

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর রঙ্গিপাড়া রমনা আবাসিকের এক বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ব্ল্যাক, ওরিসসহ বিভিন্ন  ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট পেপার ও অবৈধ সিগারেট স্ট্যাম্প জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা এবং কাস্টমস ভ্যাটের সমন্বয়ে একটি টিম।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে এক বিশেষ অভিযানে রমনা আবাসিক এলাকার আল ফরিদ ভবন থেকে এসব জব্দ করা হয়। এই গুদামের মালিক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন ও তার ভাই আবদুল মান্নান খোকন।

এই গুদামের পাশের ভবন আপন নিবাসে উভয় ভাই বসবাস করতেন। লিটন ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে পড়ে প্যানেল মেয়র মনোনীত হয়েছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মতো আবদুস সবুর লিটনও পলাতক রয়েছেন।

কাস্টমস গোয়েন্দার তৎকালীন মহাপরিচালক ফখরুল আলমের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির অভিযানের আওতায় কাস্টমস ভ্যাট ও কাস্টমস গোয়েন্দা টিম যৌথ এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান প্রসঙ্গে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক সাইফুর রহমান রাত সাড়ে ১১টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযানে ভবনের নিচ তলায় একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট স্ট্যাম্প ও বিদেশি সিগারেট পেপার পাওয়া গেছে। এসব উপকরণ নকল সিগারেট তৈরিতে ব্যবহার হত এবং রাজস্ব ফাঁকিসহ সিগারেট খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সাথে জড়িত। 

অভিযানে ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার পিস সিগারেট স্ট্যাম্প, ১৭৩৬ রোল সিগারেট পেপার ও সিসিটিভি  জব্দ করা হয় বলে তিনি জানান।
 
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব উপকরণ দিয়ে ওরিস ও ইজি লাইটসের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের ‘নকল’সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট তৈরি করা হতো। আর তৈরি সিগারেট ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো। দেশের অবৈধ সিগারেটের বাজারের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত আবদুস সবুর লিটন ও তার ভাই আবদুল মান্নান খোকনের মালিকানাধীন ‘বিজয় ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো’ ও ‘তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো’ নামের দুই প্রতিষ্ঠান। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত