এসকে ট্রিমসে মতিউরের সংশ্লিষ্টতা না থাকার দাবি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৫১ এএম

কোরবানির ঈদে আলোচিত ‘ছাগল-কা-ে’ ফেঁসে যাওয়া এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যের সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ কাইয়ুম হাওলাদার। অথচ মতিউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন সংবাদ প্রকাশের কারণে কোম্পানিটি ব্যাংক হিসাব বন্ধসহ নানা হয়রানির মধ্যে পড়েছে, যাতে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসকে ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ কাইয়ুম হাওলাদার বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শতভাগ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের এলসি (ঋণপত্র) বন্ধ থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। এতে করে কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করা হাজার হাজার বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিশেষ করে কোম্পানিটির সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের মালিকানা রয়েছে, এমন প্রচারণার কারণে দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কোম্পানির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছিল। এতে করে কোম্পানিটির দেড় হাজার শ্রমিক, কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ব্যাংক লেনদেন বন্ধ করায় প্রতিষ্ঠানটির এলসি বন্ধ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায় এবং বিদেশিদের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়। এতে করে কোম্পানিটিতে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা লোকসানে পড়ে। অথচ এসকে ট্রিমসে মতিউর রহমান এবং তার পরিবারের কেউ পর্ষদে নেই এবং তাদের মালিকানা নেই।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই এসকে ট্রিমসের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার খবরে শেয়ারের পতন শুরু হয়। গত ১১ জুলাই এসকে ট্রিমসের শেয়ারদর ছিল ২৫ টাকা ৫০ পয়সা, যা এখন ১৪ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার খবর প্রকাশের পর প্রতিটি শেয়ারের দর কমেছে ১১ টাকা ২০ পয়সা বা ৪৪ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির সব শেয়ারের দর কমেছে ৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার।

গত ৭ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া চিঠিতে এসকে ট্রিমস কর্তৃপক্ষ জানায়, কোম্পানিতে মতিউর রহমান এবং তার পরিবারের কেউ পর্ষদে নেই এবং তাদের মালিকানা নেই। তবে মতিউর রহমানের ছেলে ও মেয়ে গ্লোবাল ম্যাক্স প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ ও গ্লোবাল সুজের শেয়ারহোল্ডার। যে দুটি কোম্পানি এসকে ট্রিমসের মালিকানায় আছে। গতকাল এসকে ট্রিমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দুটি কোম্পানিতে মতিউর রহমানের ছেলেমেয়ের শেয়ারও উল্লেখযোগ্য নয়।

এমএ কাইয়ুম হাওলাদার বলেন, এসকে ট্রিমসের শেয়ারহোল্ডার ৬ হাজার ৭৯৩ জন। কোম্পানিটি শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এ কোম্পানিটিতে এনবিআরের সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের মালিকানার সংবাদ প্রকাশের পর কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাব জব্দের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে করে ক্রয়াদেশ বাতিল ও কারখানা বন্ধ করায় লোকসানে পড়েছেন শেয়ারহোল্ডাররা।

তিনি বলেন, গত ২৫ জুন এসকে ট্রিমসের ওয়ান ব্যাংকে পরিচালনা করা হিসাব এবং ১১ জুলাই ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়। এর ফলে এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ, যা গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকরও করা হয়। তবে এরপর উচ্চ-আদালত ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় ব্যাংক হিসাব চালু হয়েছে। এতে করে গত ২১ সেপ্টেম্বর কারখানার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে ব্যাংক হিসাব জব্দ ও ক্রয়াদেশ বাতিলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এসকে ট্রিমসের শেয়ারহোল্ডারদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে, যা এখনো চলমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত