পাকা সড়কে বাঁশের সাঁকো

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৫২ এএম

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় বন্যার পানি নেমে গেলেও সড়কে-সড়কে ক্ষত ভেসে উঠেছে। অনেক সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সড়কে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ পারাপার হচ্ছে। উপজেলার চান্দলা থেকে মন্দভাগ পর্যন্ত সড়কের এ অবস্থা। বন্যার আগে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তি পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর চান্দলা থেকে মন্দভাগ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। সড়কের পশ্চিম অংশে প্রায় ৫০ ফুট, একই এলাকার পূর্ব অংশে প্রায় ১০০ ফুট এবং দেউশ অংশে প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত ভেঙে গিয়ে সড়কের মাঝখান দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই তিন স্থান দিয়ে মানুষ পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো স্থাপন করেছে এলাকাবাসী। আর সড়কের বাঁকি অংশ জুড়ে কার্পেটিং ও পিচ উঠে ইটের খোয়া বেরিয়ে এসেছে। অনেক স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, চান্দলা-মন্দবাগ সড়কটি দিয়ে রামচন্দ্রপুর, শান্তিনগর, সাজঘর, দেউশ, রাহুল খাঁর, চড়ের পাথর, মন্দভাগ, চৌব্বাস গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় আসা-যাওয়া করে। বিশেষ করে ওই সব গ্রাম থেকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে আসার একমাত্র সড়ক এটি। সড়কটি দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব গ্রামের মানুষকে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে বেহাল সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী-শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নারী, শিশু ও রোগীরা। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা।

সড়কটিতে বাঁশের সাঁকো নির্মাণকাজে অংশ নেওয়া চান্দলা-শান্তিনগর গ্রামের অপু আহমেদ বলেন, বন্যার পানির স্রোতে এই সড়কের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। আমরা যুবসমাজ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে তিনটি স্থানে বাঁশের সাঁকো দিয়ে হেঁটে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু এখন যানচলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে (মিরপুর-কুমিল্লা) সড়কে এসে বিভিন্ন যানবাহনে উঠতে হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র ও সাজঘর উত্তরপাড় গ্রামের বাসিন্দা শাকিব বলেন, আমার কলেজের ক্লাস শুরু হয় সকাল ১০টায়। কিন্তু আমাকে বাড়ি থেকে দুই ঘণ্টা আগে ৮টার মধ্যে রওনা দিতে হয়। কারণ আমার প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ হেঁটে এসে গাড়িতে উঠতে হয়। এই সড়কটি অতিজরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা না হলে আমাদের ভোগান্তি শেষ হবে না। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, সড়কটি যেন অতিদ্রুত মেরামত করার ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা অফিস সূত্র জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা অংশে গোমতী নদী ভেঙে বুড়িচং ডুবে। পরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলাও ডুবে বানের পানিতে। সেই সঙ্গে ভেঙে যায় উপজেলা ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সালদা নদী বাঁধও। এই প্রলয়ংকরী বন্যায় এ উপজেলার ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের অনেক অংশ এখনো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। বেশিরভাগ স্থানেই খানাখন্দ।

এ বিষয়ে শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, এবারের বন্যায় আমাদের শশীদল ইউনিয়ন ও আশপাশের গ্রামের রাস্তাগুলো ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি (মন্দভাগ-চান্দলা) বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী সড়কের তালিকা করে নিয়ে গেছেন। আশা করি, দ্রুতই সংস্কার শুরু হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম বলেন, এবারের বন্যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭০ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক ও ছয়টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সড়ক ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও ছোট-বড় গর্ত হয়েছে। এগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত