মেঘনা নদীর ভাঙন কবলিত একাধিক পরিবারের কাছে জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রি না দিয়ে কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি ‘ভূমি দস্যু হানিফ’ নামে পরিচিত। তার ছেলে মো. হারুন উপজেলা কৃষক লীগের করায় তাদের বিরুদ্ধে কোন ভুক্তভোগী মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। হারুনের বিরুদ্ধে দোকান ঘর দখল ও টাকা নিয়ে ভাতার কার্ড করিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর কাদিরা ইউনিয়নে নদী ভাঙন কবলিত একাধিক পরিবার হানিফ মিয়ার কাছ থেকে বসতি জমি কিনে প্রতারিত হয়েছেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, বিগত ১০-১২ বছর পূর্বে মেঘনার ভাঙনে বাড়ি-ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে চর কাদিরায় হানিফ মিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৩৫-৪০ পরিবার জমি ক্রয় করে। জমির টাকা দিয়েও তারা রেজিস্ট্রি নিতে পারছেন না। হানিফ মিয়া বিভিন্ন তাল-বাহানা করে জমি রেজিস্ট্রি দিচ্ছেন না। ছেলের প্রভাব তার প্রতারণার মূল হাতিয়ার।
আলী হোসেন সিকদার জানান, দীর্ঘ ১০বছর আগে মেম্বার হারুনের বাবা হানিফের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা জমি কিনে বাড়ি করেন। কিন্তু তিনি জমির কোন রেজিস্ট্রি দিচ্ছে না। আবুল কালাম জানান, তিনি হানিফের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ১২-১৩ বছর আগে জমি কিনেছেন। কিন্তু জমির রেজিস্ট্রি দিচ্ছে না। প্রতিদিন ঘুরাচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, তার ছেলে আওয়ামী লীগ এবং মেম্বার হওয়ার পর থেকে তার বাবা হানিফ নদী ভাঙা মানুষের সাথে প্রতারণা শুরু করে। তিনি অসহায় মানুষরে ভুয়া দলিল দেখিয়ে চরের খালি চাষের জমি বিক্রি করে ১০-১২ বছর যাবত রেজিস্ট্রি দিচ্ছে না। মানুষগুলো বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে থাকতেছে। তার ছেলের ভয়ে তাকে (হানিফ মিয়া) কেউ কিছু বলতে পারছে না। তিনি মানুষের কাছ থেকে জমির টাকা নিয়ে হুমকি-ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। প্রায় ৩৫-৪০টা পরিবারের প্রায় দেড় কোটি টাকার জমি বিক্রি করেন তিনি।
এছাড়াও হারুন মেম্বার আলী হোসেনের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ১১ হাজার ৫০০, সাফিয়া বেগম থেকে চালের কার্ডের জন্য ৪ হাজার, ইয়ানুর থেকে চালের কার্ডের জন্য ৭ হাজার, রানু বেগম থেকে বিধবা কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা নেন। এভাবে অসংখ্য অসহায় মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেবে বলে টাকা নেন তিনি।
এ বিষয়ে হারুন মেম্বার জানান, তাদের বাবা-ছেলের সম্মান নষ্ট করতে কিছু সুবিধাবাদী মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে। তারা এসব প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন। তারা অল্প কিছু টাকা নিয়ে কলোনীতে মানুষকে থাকতে দিয়েছেন।
হানিফ মিয়া জানান, আমার ছেলে হারুন মেম্বার মাদ্রাসায় পড়েছে। সে জামায়াত করে, কিছুদিন আওয়ামী লীগ করত। তার ছেলের সম্মান ক্ষুন্ন করতে প্রতারণার অভিযোগ করছে অনেকেই।
জানা যায়, হারুন মেম্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমান কৃষক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। চর কাদিরা ইউপির ৯নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে চেয়ারম্যান প্যানেল-২ এর দায়িত্বে রয়েছে।
উপজেলা থানা তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোন অভিযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নির্বাচনের সময় ঘোষণার এখতিয়ার প্রধান উপদেষ্টার : আসিফ নজরুল
এবারও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে ডাক পেল না জাতীয় পার্টি
যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা