অনেকটা নাটকীয়ভাবেই বাংলাদেশের কোচের চেয়ারে ফিল সিমন্স। অতীতে বেশ কয়েকবার যে চাকরিটা পেতে আবেদন করে, সাক্ষাৎকার দিয়েও পাননি; মাত্র দেড় সপ্তাহের ভেতর নিজেকে সেই ভূমিকায় নিজেকে আবিষ্কার করেছেন সাবেক এই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রস্তুতির সময় পেয়েছেন মাত্র ২ দিন। গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রথমবার মুখোমুখি হয়ে সিমন্স স্পষ্ট একটা বার্তা দিয়েছেন। তা হচ্ছে নাটক শেষ, ক্রিকেট শুরু।
জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে জনপ্রিয় হয়েছে একটি স্লোগান, ‘নাটক কম করো পিও’। সাকিব আল হাসানকে ঘিরে নাটকীয়তা কম নয় বরং বেশি বেশিই হচ্ছে। কানপুরে অবসরের ঘোষণা থেকে শুরু করে দেশে নিরাপত্তা ও দেশত্যাগের নিশ্চয়তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে তার দর কষাকষি এবং সবশেষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দিয়ে আরব আমিরাতে এসেও ঢাকার বিমানে না ওঠা। এতে করে সংবাদমাধ্যমে আড়ালে চলে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের প্রস্তুতি। সাকিব কান্ডের মীমাংসা হতে না হতেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে বরখাস্ত করার বার্তা চলে আসে। এত কিছুর আড়ালে চাপা পড়া ক্রিকেটকেই সামনে আনতে চাচ্ছেন নবনিযুক্ত কোচ ফিল সিমন্স।
দায়িত্ব পেয়ে প্রথমেই বলেছেন, ‘আমার সর্বোচ্চ প্রাধিকার ক্রিকেট। সোমবারের ভেতর দলটাকে প্রস্তুত করতে হবে। সবশেষ দুদিনের প্রস্তুতি দারুণ হয়েছে। আমরা সব রকম দ্বিধাকে পেছনে ফেলে সোমবারের জন্য প্রস্তুত হতে চাই।’
হাথুরুসিংহের আগে রাসেল ডোমিঙ্গো কিংবা স্টিভ রোডস, বাংলাদেশ থেকে কোনো কোচের বিদায়ই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়নি। এই ইতিহাস জেনেও কেন বাংলাদেশের কোচের ‘হটসিট’-এ বসতে আগ্রহী হয়েছেন, এমন প্রশ্নে সিমন্সের উত্তর, ‘আন্তর্জাতিক কোচের চাকরিটাই হটসিট-এ বসার, বাংলাদেশ ব্যতিক্রম, পাকিস্তান ব্যতিক্রম। আমার কাছে মনে হয় এই আসনটা খুব একটা উত্তপ্ত নয়। আমি ভালোবাসি খেলোয়াড়দের খেলতে দেখতে, তাদের শেখাতে। গত দুদিন তো ভালোই কাটল।’
সিমন্সের কথায় জানা গেল, খুব কম সময়ে তিনি নিয়েছেন সিদ্ধান্ত, ‘আজ (গতকাল) তো শনিবার। খুব সম্ভবত দেড় সপ্তাহ আগে আমাকে প্রথম প্রস্তাব করা হয়। আমার আগ্রহটা এসেছে মানসম্পন্ন তরুণ ক্রিকেটারদের দেখে। তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে খুব ভালো করেছে। তারা ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে খুব একটা ভালো করেনি, তবে তারা বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি দলের বিপক্ষে খেলেছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কারণ তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতি করার সুযোগ আর দ্বিতীয় কারণ টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলার সুযোগ।’
অধিনায়কের সঙ্গে একদফা কথা হয়ে গেছে সিমন্সের, জানালেন দুজনেই আছেন একই পথে, ‘তার সঙ্গে কথা হয়েছে কী ধরনের নির্দেশনা সে চায় আমার কাছ থেকে সে ব্যাপারে। একই সঙ্গে সোমবারের (টেস্ট শুরু) আগে আমরা কী করব, সেসব নিয়েও। সাধারণত কথাবার্তা হয়েছে প্রথম টেস্টে আমরা কী করতে পারি তা নিয়েই। আমরা যখন পরস্পরকে আরও ভালোভাবে জানতে পারব, তখন আমরা ওয়ানডে নিয়েও আলাপ করব। আপাতত আলাপটা টেস্ট ক্রিকেট নিয়েই।’
হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে বিসিবির অভিযোগ ছিল অনাকাক্সিক্ষত আচরণ এবং অতিরিক্ত ছুটি গ্রহণ। সিরিজ শেষ হলেই হাথুরুসিংহে চলে যেতেন অস্ট্রেলিয়াতে, আবার আসতেন সিরিজ শুরুর আগে। দেখতেন না ঘরোয়া ক্রিকেট। সিমন্স অবশ্য বলেছেন যে দুই সিরিজের মাঝের সময়টা প্রস্তুতির জন্যই বরাদ্দ রাখবেন, তবে শেষ পর্যন্ত বিসিবি কীভাবে তাকে কাজে লাগায় সবকিছু তার ওপর নির্ভর করবে।
কেউ ল্যাপটপ কোচ, কেউ-বা আবার মানসিক জোর বাড়ানোয় বিশ্বাসী। সিমন্সের দর্শনটা সহজ, ‘আমার দর্শন হচ্ছে আমি প্রস্তুতিতে কঠোর পরিশ্রম করব আর মাঠে তার প্রতিফলন দেখা যাবে। গত দিনদুয়েকে যা দেখেছি, এই ছেলেরা প্রচুর পরিশ্রম করে তাদের ফিটনেস, দক্ষতা আর খেলায় উন্নতির জন্য। তাদের গত দিন দুয়েকের কার্যক্রমে আমি খুশি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ডে কাজ করা সিমন্স জানেন; ছোট দল আর অস্থির বোর্ড এবং একদল উচ্ছৃঙ্খল ক্রিকেটারকে কীভাবে সামলে ফল বের করে আনতে হয়। সেই অভিজ্ঞতাটাই কাজে লাগাতে চান বাংলাদেশে। এজন্যই সবার আগে দৃষ্টি ফেরাতে চান মাঠের ক্রিকেটে।
