সামসুন্নাহারের গোলে রক্ষা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:২২ এএম

পিটার জেমস বাটলারের আশঙ্কাটাই সত্য হলো। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগেও শিরোপাধারী বাংলাদেশের কোচ জোর গলায় জয়ের কথা বলতে পারেননি। রবিবার কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় পাকিস্তান ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশকে।  

যেই পাকিস্তানকে নিয়ে গত আসরে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছিল, জিতেছিল ৬-০ গোলে। তাদের কাছেই এবার হারতে বসেছিল বাংলাদেশ। ইনজুরি টাইমে সামসুন্নাহার জুনিয়র গোল না করলে লজ্জার হার দিয়ে শুরু হতো বাংলাদেশের শিরোপা ধরে রাখার মিশন। জয় পেলেই যেখানে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়, সেই ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পাওয়ায় এখন বাংলাদেশকে অপেক্ষায় থাকতে হবে ২৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য।

রবিবার অভিজ্ঞ মারিয়া মান্ডা, সানজিদা খাতুন ও কৃষ্ণারানী সরকারকে বাইরে রেখে একাদশ সাজিয়েছিলেন বাটলার। আক্রমণে অধিনায়ক সাবিনার সঙ্গে ছিলেন তহুরা ও সামসুন্নাহার জুনিয়র। এছাড়া বাঁ দিক থেকে আক্রমণ রচনার মূল কাজটা করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা। মাঝমাঠ ছিল মনিকা চাকমা ও স্বপ্নারানীর দখলে। আর ব্যাকফোর শিউলি আযিম, আফিদা খন্দকার, কোহাটি কিসকু ও সামসুন্নাহার সিনিয়র।

৪-২-৩-১ ফরম্যাশনে বাংলাদেশ শুরু থেকেই বাঁ প্রান্ত ব্যবহার করে গোলের চেষ্টা করেছে। তবে তহুরা ও সাবিনা পারেননি নামের প্রতি সুবিচার করতে। ঋতুর একের পর এক ক্রসে সংযোগ ঘটাতে পারেননি তারা। পাকিস্তানের চার ডিফেন্ডার ও গোলকিপার নিশা অবশ্য জমাট রেখেছেন রক্ষণভাগ। তারপরও গোল পেতে পারত বাংলাদেশ যদি সুযোগগুলো কাজে লাগানো যেত। উল্টো প্রতি আক্রমণে বারবার গোলের চেষ্টা করা পাকিস্তান সফলতা পায় ৩২ মিনিটে। ডিফেন্ডার শিউলি আযিমের ব্যর্থতায় ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বাংলাদেশ। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে রামিন ফারিদ মাঝমাঠ থেকে লম্বা বল ফেলেন বাংলাদেশের রক্ষণে। শিউলি সেই বল ক্লিয়ার করতে পারেননি ঠিকঠাক। উল্টো তার গা ঘেঁষে আক্রমণে ওঠা সামিনা মালিক আলতো টোকায় পরাস্ত করেন গোলকিপার রূপনা চাকমাকে।

এরপর থেকেই গোলের মরিয়া চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। তবে ফিনিশারের অভাবটা বোঝা গেছে প্রতি মুহূর্তে। ৪২ মিনিটে ঋতুর বক্সের ওপর থেকে নেওয়া শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরলে হতাশ হয়ে বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়েও খুব একটা লাভ হয়নি। তিন-চারটি পরিবর্তনেও ঘুরেনি ভাগ্য। উল্টো ৭৭ মিনিটে পাকিস্তান পেতে পারত দ্বিতীয় গোলের দেখা। তবে তাদের ফরোয়ার্ড আমিনা রূপনা চাকমাকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। শট নেওয়ার আগে রূপনা বল আয়ত্তে নেন।

আফসোসেই শেষ হয় বাংলাদেশের নির্ধারিত ৯০ মিনিট। তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই স্বস্তি মিলেছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দলকে হারতে দেননি ষষ্ঠ মিনিটে মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও ব্যান্ডেজ বেঁধে পুরো ম্যাচ খেলা ফরোয়ার্ড সামসুন্নাহার জুনিয়র। বাঁ-দিক থেকে ঋতুর অসাধারণ ক্রস গোলমুখের জটলায় এলে তাতে হেড করে গোল করেন সামসুন্নাহার। তাতে বেঁচে থাকে সেমিফাইনালের আশা। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেই নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এর আগে পাকিস্তানকে ৫-২ গোলে হারিয়ে ভালো অবস্থানে আছে পাঁচবারের শিরোপাধারী ভারত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত