ট্রাফিক শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০৬ এএম

 বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসক পালিয়ে গেলেও অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশকে নানামুখী ও বিচিত্র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর অন্যতম হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এ কথা সবার জানা যে আন্দোলন দমন করতে হাসিনা সরকার পুলিশ বাহিনীকে নির্মমভাবে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। ফলে, সরকার পতনের পর জনতার রোষের শিকার হয় পুলিশ। পুলিশের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়াও, আওয়ামী শাসনামলে বেশিরভাগ পুলিশ সদস্যই দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ায় সরকার পতনের পর বাহিনীর মধ্যে নৈরাশ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে, পুলিশের অনুপস্থিতিতে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল তা হয়নি বলা চলে। এমনিতেই প্রচ- ট্রাফিক জ্যামের শহর ঢাকায় ট্রাফিক পুলিশের অভাবে নারকীয় অবস্থা তৈরির আশঙ্কা দেখা দেয়। অভ্যুত্থানের অব্যবহিত পরপর এসব বাচ্চা ছেলেমেয়েরা পেশাগত দক্ষতা না থাকলেও প্রচ- আগ্রহ ও ইচ্ছার জোরে এবং জনতার সহযোগিতায় স্ব-উদ্যোগে ট্রাফিকের দায়িত্ব তুলে নেয়।

দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করতে ৩০০ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক পক্ষের কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে তাদের সম্মানীসহ যুক্ত করা হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সোমবার ডিএমপির ট্রাফিক পক্ষ-২০২৪-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এ ক্ষেত্রে আমাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তাকারী ছাত্রদের যেন চিনতে পারা যায়। কারণ যে কেউ ছাত্র পরিচয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। এক্ষেত্রে বিএনসিসি এবং স্কাউটসদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত সুবিবেচনাপ্রসূত।

পৃথিবীর বহু দেশেই নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের এই ধরনের কাজে লাগানো হয়। একদিকে দেশের ভবিষ্যৎ তথা তরুণরা এসব কাজে দক্ষ হতে থাকে, অন্যদিকে জনগণের সঙ্গে তাদের আত্মিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি কিছু অর্থপ্রাপ্তি হলে ছাত্র বয়সেই বেশ উপকার হয়। বাংলাদেশও এই পথে হাঁটতে পারে তা প্রমাণিত। কর্র্তৃপক্ষও সেভাবেই ভাবছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও বৈধ-অবৈধ যানবাহনের আধিক্যের কারণে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ভেঙে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ছাত্র-জনতাসহ নগরে বসবাসকারী জনসাধারণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ট্রাফিক শৃঙ্খলা উন্নয়ন সম্ভব। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডিএমপি ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।’ অন্যদিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘সরকারের প্রত্যেকটি খাত সচল রাখার জন্য তরুণরা যেভাবে সহযোগিতা করছে এটি অভূতপূর্ব ঘটনা। এই তারুণ্যের শক্তিকে অন্তর্বর্তী সরকার কাজে লাগাতে চায়।’

সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে লক্ষ রাখতে হবে এর ফলে যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়। ছাত্ররা যখন ট্রাফিক সামলিয়েছে তখন বেশ কিছু বাড়াবাড়ির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ছাত্রদের অমান্য করার অভিযোগও ছিল। লক্ষ রাখতে হবে, এসব যাতে না ঘটে। সর্বোপরি, অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের অবদানের একটা স্বীকৃতি হিসেবেও একে দেখা যেতে পারে। সেই সঙ্গে ওই বিশৃঙ্খল সময়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তাদের যে অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে, তার মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সাধনও হবে এর দ্বারা। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্র্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। সব পক্ষের সহযোগিতাতেই এই বিকট হয়ে ওঠা সমস্যা কিছুটা সমাধান করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত