বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে দ্বিতীয় দিন সড়ক অবরোধ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:২৫ এএম

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়াসহ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে অবরোধের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচল। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও।

এদিকে অবরোধের মুখে মহাসড়কের আটকে পড়া যানবাহনের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলেও শ্রমিকরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় শিল্প পুলিশ ও সেনার সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেন।

শ্রমিকরা জানায়, গত তিন মাস ধরে কোনো বেতন বোনাস পায়নি তারা। বেতন না দিয়ে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে কয়েকবার মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। বারবার আশ্বাস দিলেও তারা বেতন পরিশোধ করেনি। তিন মাস অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ শ্রমিক বেতন বোনাস পায়নি। কারখানার স্টাফদের বেতন বকেয়া আছে চার থেকে পাঁচ মাসের। এরপর বিজিএমইএ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ে গেলে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কারখানা খুলে দেয়নি, বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আরও জানায়, গত তিন মাস ধরে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। বাসা ভাড়া ও দোকান বাকি থাকায় অনেকটাই না খেয়ে দিন পার করছেন। কোথাও চাকরি নিতে পারছেন না। এক মাসের বেতন বোনাস পরিশোধ না করেই গত মাসে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। গত মাসে বিজিএমইএ ও শ্রম মন্ত্রণালয় তাদের আশ্বাস দিয়েছে বেতন বোনাস পরিশোধ এবং কারখানা খুলে দেওয়া হবে। কিন্ত তিন মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করেনি। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে এসেছেন। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলতে থাকবে বলেও জানান শ্রমিকরা।

জানতে চাইলে আশুলিয়া শিল্প-পুলিশ-১ এর এসপি মো. সারোয়ার আলম বলেন, শ্রমিকদের বিগত কয়েক মাসের বেতন পরিশোধ না করে জেনারেশন নেক্সট কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কারখানা বন্ধ রেখেছেন। আমরা বিজিএমইএ, কলকারখানা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের তাগিদ দিয়েছি। বেতন পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানা সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি জানান, কারখানার চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব শেট্টি ভারতীয় নাগরিক। তিনি দেশে ফিরে গেছেন। ফলে বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। কারখানাটির প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৩-১৪ কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। সরকার বা ব্যাংক ঋণ দিলে কারখানা পুনরায় চালু করা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত