রাষ্ট্রপতি-সংবিধান ইস্যুতে রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:২২ এএম

বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ দাবিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংগঠন দুটির আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা চাই না ৭২-এর বাকশালী পচা-গলা সংবিধান বাংলাদেশে বিরাজমান থাকুক। বাংলাদেশে যত সংকট, সব সংকটের মূলে ৭২-এর সংবিধান। গণঅভ্যুত্থানের যত রাজনৈতিক শক্তি আছে, আমরা তাদের জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। হাসিনা ফ্যাসিস্ট রেজিমের অংশ এখনো বিরাজমান। ফ্যাসিস্ট রেজিমের কোনো অংশ বাংলাদেশে আমরা বিরাজমান দেখতে চাই না। এই ফয়সালা রাজনৈতিক দলগুলোকে করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করব আপনারা বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না। হাসিনা ফ্যাসিস্ট রেজিমের অংশ চুপ্পুকে (রাষ্ট্রপতির ডাকনাম) অপসারণের দাবিতে আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চুপ্পুর অপসারণ ও ৭২-এর সংবিধান বাতিলের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে (গতকাল) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়েছে। আমরা দেখেছি তারা ফ্যাসিস্ট রেজিমের অংশগুলোকে রাখার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট রেজিমের অংশ এখনো বঙ্গভবনে দেখতে পাচ্ছি। চুপ্পুর অপসারণ না হলে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে।’

একই সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের এক দফার দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থা বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল আমাদের এক দফার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে রাজপথে নেমে এসেছে। হাসিনার পতনে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন হয়েছে। ৭২-এর সংবিধানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, ফ্যাসিস্টরা সংঘবদ্ধ হয়েছে এবং এর প্রসার হয়েছে। হাসিনা সরকারকে পদত্যাগের কথা; তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচনের কথা বললে সবসময় সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিত। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাংবিধানিক দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে টিকিয়ে রাখতে চায়। তাদের কাছে আহ্বান থাকবে, ৭২-এর সংবিধান প্রশ্নে এবং আমাদের অভ্যুত্থান প্রশ্নে আপনাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। কারণ যারা গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে, এক দফায় একাত্মতা পোষণ করেছে, তারা ৭২-এর সংবিধান সমর্থন করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে নতুন সংবিধান চাই, যে সংবিধানে গণমানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হবে, নতুন ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ থাকবে। সংবিধান বাতিল হলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রয়োজন হবে না। গণতন্ত্রকামী প্রত্যকটি রাজনৈতিক দলের ঐক্য চাচ্ছি, তবে মুজিববাদী ও জাতীয় পার্টির কোনো সংস্পর্শ থাকবে না। গণতন্ত্রকামী সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান করে বলতে চাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে পাঁচ দফা দিয়েছে, সেটাই গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লবে রূপান্তর করার চূড়ান্ত দফা। পাঁচ দফার মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান বিপ্লবে রূপান্তরিত হবে। বাংলাদেশ প্রশ্নে স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত