ইঁদুর-পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক, খোঁজ নেই কৃষি অফিসের

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৪৩ পিএম

ময়মনসিংহের নান্দাইলে চলতি রোপা আমন ফসলে ইঁদুর ও পোকার আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে শতশত হেক্টর ধানের জমি। একাধিকবার করে বিভিন্ন জাতের কীটনাশক ব্যবহার করেও তেমন ফল না পেয়ে  অনেকটা দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক।

এমন অবস্থায় তাদের সোনার ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলনের হাল ছেড়ে দিয়েছেন অনেকেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বলছেন এমন অবস্থা হয়েছে প্রতি বিঘায় ধান চাষে যে  খরচ হয়েছে সে  টাকার ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নান্দাইলে এ বছর ২২ হাজার ৪ শত ১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে। গত বছরও এই উপজেলায় প্রায় সমপরিমাণ জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছিল, কিন্তু গত বছরের অক্টোবরের শুরুতে একদিনের টানা বৃষ্টিতে বন্যার সৃষ্টি হয়, সে বন্যার পানি সরতে সময় লাগে ৭-১০ দিন ফলে মোট চাষের ৫ শতাংশ জমির ধানও তারা ঘরে তুলতে পারে নি।

নান্দাইল সদর এলাকার কৃষক কাজল মিয়া বলেন,আমার ৩০ শতক জমির ধানে ১২শ’ টাকা করে তিন বার ওষধ দিয়েছি এরপরও পোকার আক্রমণ রোধ করতে পারছি না। গতবছর এক ছটাক ধান ঘরে তুলতে পারিনি। বন্যায় খেয়েছে। এবার খাচ্ছে পোকা আর ইঁদুরে। আমরা উপজেলা সদরের কৃষক হলেও কোনোদিন কৃষি অফিসার বা এই অফিসের লোকজন এসে আমাদের কোনো পরামর্শও দেয়নি। কী করলে যে আমরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাব ভেবে পাচ্ছি না। যদি এত ওষধ টাকার ব্যবহার করি তাহলে ধান পাব কয় টাকার।

সাভার গ্রামের কৃষক আ. মানাচ্ছ  পোকা ইঁদুরের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত জমি থেকে মরা ধান তুলতে তুলতে বললো, কী করন যাইবো গতবছর খাইছে বন্যায় এইবার খাইতাছে ইঁদুর ও পোকায়। আমরার খবর তো কেও লয় না। 

বর্গাচাষী কৃষক অলি উল্লাহ বলেন, দুই বার কইরা বিষ দিছি কাম হইতাছে না, আর দিতে পারতাম না টেহা নাই, পোকায় ধানের মাইন কাইট্টা দিচ্ছে, গোড়ায় পচন ধরছে অহন ধান কাইট্যা গরুরে খাওয়াইতাছি কী করবাম।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান বলেন,আমি কিছু দিনের জন্য ট্রেনিংয়ে আছি, সারা উপজেলায় মাঠকর্মীদের দিয়ে টিম গঠন করে দিয়েছি। তাদের খোঁজ খবর রাখার কথা, এরপরও কোথাও সমস্যা পেলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত