যে ব্যক্তি হজরত রাসুল (সা.)-কে অনুসরণ করে সে মূলত মহান আল্লাহকেই অনুসরণ করে। একমাত্র রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য ও অনুকরণের মাধ্যমেই কেবল আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি, মুক্তি ও হেদায়েত পাওয়া সম্ভব। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করো, যদি তোমরা ইমানদার হয়ে থাকো।’ (সুরা আনফাল ১) এতেই রয়েছে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও রাসুলের অনুগত হবে জান্নাতেও তারা রাসুলের সঙ্গে থাকবে। তাদের ওপর আল্লাহ বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন। আর তারা হলেন নবী, সিদ্দিক, শহীদ ও সৎকর্মশীল বান্দারা। সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না চমৎকার।’ (সুরা নিসা ৬৯)
কাজেই আল্লাহর নির্দেশ পালন করার সঙ্গে রাসুল (সা.)-এর আদেশও পালন করতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে রাসুল (সা.)-এর সুন্নত পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে। উম্মতের প্রতি রাসুল (সা.)-এর সব নির্দেশ, সমর্থন, কর্ম ও আচরণকে আমরা সুন্নত বলে জানি। আর এই সুন্নতসমূহকে নিজেদের জীবনে ধারণ ও পালন করার অর্থই হলো নবীর সুন্নতের অনুসারী হওয়া বা এক কথায় রাসুল (সা.)-এর অনুসারী হওয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নত এবং আমার হেদায়েতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নত অনুসরণ করবে। তোমরা তা কঠিনভাবে আঁকড়ে ধরো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা হতে সাবধান থাকো। নিশ্চয়ই প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই বিদয়াত এবং প্রত্যেক বিদয়াতই হলো ভ্রষ্টতা।’ (সুনানে আবু দাউদ)
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে অনুসরণ করে, তারাই মূলত আমাকে ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসবে সে অবশ্যই আমার সঙ্গে জান্নাতে প্রতিবেশী হবে।’ সুতরাং রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসতে হবে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি। যার ভেতর রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা থাকবে না, সে কোনো দিন প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হব।’ (সহিহ্ বুখারি) পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নবী মুমিনদের কাছে তাদের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয়।’ (সুরা আহজাব ৬)
