‘২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড ছিল দেশ ও জাতিসত্তাবিরোধী ষড়যন্ত্র’

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৫৬ পিএম

২৮ অক্টোবরের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী বাকশালীরা তাদের হত্যার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে দেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব ও জাতিসত্তার মর্মমূলে আঘাত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর কমিউনিটি সেন্টারে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের মিরপুর উত্তর থানা শাখা আয়োজিত এক সহযোগী সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

থানা আমির মনিরুল ইসলাম মৃধার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম রিমনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ও মিরপুর জোন পরিচালক মাহফুজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন শাহ আলী থানা আমির ডা. মাঈন উদ্দিন ও থানা নায়েবে আমির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম এম লিয়াকত আলী প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজপথে নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিছক কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা হত্যাকাণ্ড ছিল না, বরং তা ছিল আমাদের দেশ ও জাতিসত্তাবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমেই আমরা আমাদের দেশের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় একটি আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সেবাদাস সরকার। ফলে দেশে ফ্যাসীবাদী ও মাফিয়াতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সাড়ে ১৫ বছরের বাকশালী সরকারের হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সাহসী, মেধাবী ও চৌকস সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা জড়িত। তারা কথিত বিচারের নামে প্রসহন করে জাতীয় নেতাদের একের পর এক হত্যা করে দেশের মানচিত্রকে রক্তাক্ত ও কলুষিত করে।

তিনি বলেন, ৫ মে হেফাজতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পৈশাচিত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি বরং ছাত্র-জনতার যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। শহীদ আবু সাইদ ও মুগ্ধসহ প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-শ্রমিক-জনতার জীবনদান, অসংখ্য মানুষের পঙ্গুত্ব বরণ, হাজার হাজার মানুষের ত্যাগ ও কোরবানির মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই এই বিজয়কে অর্থবহ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদীরা রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বিচার বিভাগ, ব্যাংক-বীমাসহ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, জনপ্রশাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। আওয়ামী-বাকশালী শাসনামলে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডসহ যত অন্যায়-অবিচার সংগঠিত হয়েছে বাংলার মানুষ একদিন এর ন্যায়সংগত বিচার করবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ছাত্র-জনতার দাবি ছিল একটা বৈষম্যহীন ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ার। জামায়াতে ইসলামীকে দেশকে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি স্বপ্নে সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তিকে কুরআন-হাদীসের আলোকে জীবন গড়ার পাশাপাশি অসহায়, সমস্যাগ্রস্ত, নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকে তাদের সার্বিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত