সমাজে চলতে গেলে আমাদের একে অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয়। অনেক সময় নিজের জানমালের হেফাজত করার জন্য অন্যের কাছে নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন জিনিস আমানতস্বরূপ রাখতে হয়। যার কাছে আমানত রাখা হয় তার কর্তব্য হলো আমানতের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করে সময় মতো ব্যক্তিকে বুঝিয়ে দেওয়া। সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধের প্রতি ইসলাম যথাযথ গুরুত্বারোপ করে আমানত রক্ষার কথা বলে এবং হকদারকে তার আমানত বুঝিয়ে দিতে আদেশ দেয়। পবিত্র কোরেআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন মানুষের মধ্যে ফয়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কতই না সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেউ তোমার কাছে আমানত রাখলে তা তাকে ফেরত দাও। যে ব্যক্তি তোমার সঙ্গে খেয়ানাত করেছে তুমি তার সঙ্গে খেয়ানাত করো না।’ (আবু দাউদ) একে অন্যের প্রতি বিশ্বাসের কারণে সমাজের মানুষ নিজের গুরুত্বপূর্ণ জিনিস অন্যজনের কাছে আমানত রাখে। এই বিশ্বাস রক্ষা করতে পবিত্র কোরআনে বিশেষ তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অন্যের আমানতের ব্যাপারে মহান আল্লাহকে ভয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা আল্লাহর ভয় ছাড়া আমানত রক্ষা করা সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি তোমরা সফরে থাকো এবং কোনো লেখক না পাও, তাহলে বন্ধকি বস্তু নিজের দখলে রাখো। আর যদি তোমরা একে অন্যকে বিশ্বস্ত মনে কর, তবে যাকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে যেন স্বীয় আমানত আদায় করে এবং নিজ রব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না এবং যে কেউ তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী। আর তোমরা যা আমল কর, আল্লাহ সে ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা বাকারা ২৮৩)
কিয়ামত যত ঘনিয়ে আসবে অন্যায় তত ছড়িয়ে পড়বে। থাকবে না কোনো আমানত। সবাই খেয়ানত শুরু করবে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন আমানত নষ্ট হয়ে যাবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমানত কীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে? তিনি বললেন, যখন কোনো দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করা হবে, তখনই কেয়ামতের অপেক্ষা করবে।’ (সহিহ বুখারি)
আমানতের রক্ষণশীল হতে পারলে রাসুল (সা.) আমাদের জন্য জান্নাতের জামিন হবেন। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের পক্ষ হতে আমাকে ছয়টি বিষয়ের জামানত দাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জামিন হব। এক. তোমরা যখন কথাবার্তা বলো তখন সত্য বলবে। দুই. ওয়াদা করলে তা পূর্ণ করবে। তিন. তোমাদের কাছে আমানত রাখা হলে তা রক্ষা করবে। চার. নিজেদের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করবে। পাঁচ. স্বীয় দৃষ্টিকে অবনমিত রাখবে। স্বীয় হস্তকে (অন্যায় কাজ হতে) বিরত রাখবে।’ (মুসনাদে আহমাদ)
