হাদিয়া বিনিময়ে আন্তরিকতা বাড়ে

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০২:০২ এএম

হাদিয়া আরবি শব্দ। এর অর্থ উপঢৌকন, প্রীতিসূচক উপহার ইত্যাদি। ভালোবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশের উদ্দেশে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ একে অন্যের মধ্যে যে উপহার আদান-প্রদান করা হয় তাকে হাদিয়া বলে। উপহার বিনিময় সামাজিক জীবনের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ। উপহার প্রদানের মাধ্যমে পরস্পর ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। হাদিয়া বিনিময় একটি প্রশংসনীয় সুন্নত। নবী করিম (সা.) অধিকাংশ সাহাবিকে হাদিয়া উপহার দিতেন এবং সাহাবায়ে কেরামও রাসুল (সা.)-কে উপহার প্রদান করতেন। তারা নিজেরাও পারস্পরিক উপহার আদান-প্রদান করতেন।

পারস্পরিক বন্ধন মজবুত করার জন্য উপহার আদান-প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর পন্থা। হাদিয়া দিলে মনের মলিনতা ধুয়ে সাফ হয়ে যায়। তাই রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একে অন্যের জন্য হাদিয়া পাঠাও। এর দ্বারা পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে এবং হৃদয়ের দূরত্ব ও শত্রুতা বিলীন হয়ে যাবে।’ (মুয়াত্তা মালেক) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পরস্পর হাদিয়া আদান-প্রদান করো, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।’ (আদাবুল মুফরাদ) অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হাদিয়া দেওয়ার মাধ্যমে মহব্বত তৈরি হয় এবং

ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় থাকে।’ রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমরা হাদিয়া বা উপহার দাও, তোমাদের মধ্যে প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হবে।’ (জামে তিরমিজি)

রাসুল (সা.)-এর সব সুন্নতের পেছনে কোনো না কোনো উপকারিতা এবং সৌন্দর্য আছেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে সুন্নতগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিলে পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত