জাতীয় লিগকে পিকনিক ক্রিকেট বলায় ক্রিকেট বোর্ডের অনেকে বড়কর্তারাই প্রতিবাদ মুখর হয়েছেন। তবে নতুন স্পন্সর এলেও মাঠের ছবিটা বদলায়নি। জাতীয় লিগে ক্রিকেটারদের মনোযোগ নেই, নেই নিবেদন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার সিলেট-চট্টগ্রাম ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলায় পতন হয়েছে ১৭ উইকেটের। চারদিনের ম্যাচের প্রথম দুই দিনে পড়েছে ৩২ উইকেট। সিলেট বিভাগীয় দলের ম্যানেজার ওয়াসিকউজ্জামান বলছেন, উইকেটে এমন কোন জুজু নেই। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ের ফল হচ্ছে এই ভয়াবহ স্কোরকার্ড।
ভারত সফরের টি-টোয়েন্টি দলে থাকা পারভেজ হোসেন ইমন, ৪টা টেস্ট খেলা শাহাদাত হোসেন দীপু, ৬টা টেস্ট খেলা ইয়াসির আলি চৌধুরি রাব্বি, চট্টগ্রাম দলের একাদশে খেলেছেন। এই ক্রিকেটাররা থাকার পরও চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে ১৯৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৩ রানে অলআউট হয়েছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ২ নম্বর মাঠ যেন ব্যাটসম্যানদের বধ্যভূমি! রবিবার ৫ উইকেটে ১১৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা সিলেট অলআউট হয় ১৫২ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে চট্টগ্রাম ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ফের ব্যাট করতে নামে সিলেট। টেস্ট দল থেকে জাতীয় লিগে ব্যাটিং করে ছন্দ ফিরে পেতে খেলতে পাঠানো হয়েছিল সিলেটে। প্রথম ইনিংসে ১৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে জাকির ৩৫ বলে ৩৬ রান করে আউট হয়েছেন আশরাফুল হাসান রোহান নামের এক তরুণ বামহাতি স্পিনারের বলে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে। জাতীয় দল সূত্রে জানা গেছে আগামীকাল তার চট্টগ্রামে দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার কথা। তবে সিলেটে ঘরোয়া ক্রিকেটের মিডিয়াম পেসার আর বামহাতি স্পিনারদের বিপক্ষেই যার রান করতে কষ্ট হচ্ছে, কাগিসো রাবাদা আর কেশব মহারাজের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স কেমন হবে সেটাই প্রশ্ন।
একই প্রশ্ন উঠতে পারে দীপু, রাব্বি ইমনদের নিয়েও। জাতীয় দল,এইচপি দল, 'এ' দলের হয়ে দেশের বাইরে নানান প্রতিযোগিতায় খেলেছেন দীপু ও ইমন, রাব্বি তো জাতীয় দলেই নিয়মিত ছিলেন কিছুদিন আগেও। তারাই সিলেটের পেসার রেজাউল ইসলাম রাজা, আবু জায়েদ রাহিদের খেলতে পারছেন না। ইমন তবুও ৪০ রান করেছেন, দীপু ০, রাব্বি ৫, শামীম পাটোয়ারি ৪ রান করেছেন মাত্র। দ্বিতীয় উইকেটে সিলেটের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৩০, জয়ের জন্য বাকি ৯০ রান এবং হাতে আছে ৮ উইকেট। চারদিনের ম্যাচ হয়তো শেষ হবে আড়াই দিনেই, কোন ইনিংসেই এখনো দলীয় দুইশ রান হয়নি, তিন ইনিংসে দুইটা মাত্র হাফসেঞ্চুরি; এমন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে টেস্টে উন্নতির আশা করাটা বোকার স্বর্গে বাস করার মতই।
রাজশাহী ও ঢাকা মেট্রোর ম্যাচ দুই দিনেই শেষ। প্রথম রাউন্ডে সিলেটের মাঠে ৪২৬ ও ২৮৩/৬ করেছিল যে রাজশাহী, তারা সাভারে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে ৭৭ ও ১৬৬ রানেই গুটিয়ে গেছে। হেরেছে ১০উইকেটে। অথচ রাজশাহীর তানজিদ হাসান তামিম আগের ম্যাচ সেঞ্চুরি করেছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে লাল বলের ম্যাচ খেলা তামিম এবার করেছেন ৯ এবং ২১ রান। ম্যাচটি হয়েছে বিকেএসপি'র ৪ নম্বর মাঠে, ২ দিনে এখানে পড়েছে ৩০ উইকেট। এর মধ্যে বাহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান রাজশাহীর দ্বিতীয় ইনিংসের ৮ উইকেট নিয়েছেন ১৫.৫ ওভার বোলিংয়ে, ৫৬ রানে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার সেরা বোলিং।
বিকেএসপিতে প্রথম দিন ভেজা মাঠের কারণে খেলা না হওয়ার পর রবিবার অবশেষে মাঠে গড়িয়েছে রংপুর-ঢাকা ম্যাচ। আগে ব্যাট করে ২৫৩ রানে অলআউট রংপুর, সর্বোচ্চ ৬৮ রান অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনের। জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ঢাকা'র সংগ্রহ ১ উইকেটে ৭০, রনি তালুকদার আউট হয়েছেন ৭ রান করে।
খুলনায় খারাপ আবহাওয়ার কারণে খেলা হয়েছে মাত্র ৩৪.২ ওভারে। তাতে এনামুল হক বিজয় ও সৌম্য সরকারের শতরানের উদ্বোধনী জুটি বরিশালের বিপক্ষে। খুলনার স্কোর ১ উইকেটে ১৩০, ৬৩ রান করে রানআউট সৌম্য আর ৬৬ রানে অপরাজিত এনামুল। আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান অমিত মজুমদার ১০ বল খেলেও রানের দেখা পাননি।
প্লেমেকার কেন 'গেম মেকার' হতে পারেন না!
ইউটিউবাররা পেছনে লাগায় নেতৃত্ব ছাড়ছেন শান্ত: আশরাফুল