ড. ইউনূসকে ফখরুল

মানুষ আপনাকে সম্মান দিয়েছে, এটা যাতে নষ্ট না হয়

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:১১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের আন্দোলন-নির্যাতন-কারাভোগ করতে হয়েছে। আশা করব, অতিদ্রুত তারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করবেন।’ প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি সারা পৃথিবীতে সমাদৃত, বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে খুবই ভালোবাসে, সম্মান দিয়েছে, দেবে, দিতে চায়। এই জায়গাটা যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্র হিসেবে, জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে, সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সবার পার্টিসিপেশনে একেবারেই নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বা চ্যালেঞ্জ একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি করা হয়েছে। প্রত্যাশা ছিল, কমিটি গঠনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে তারা একটু পরামর্শ করবেন। যাই হোক, এটাকে আমরা বড় ধরনের সমস্যা মনে করছি না। দ্রুত ইলেকশন কমিশন হোক এবং ইলেকশন কমিশন অতি দ্রুততার সঙ্গে তাদের কাজটা করবে। আমরা বিশ^াস করি, এ সরকারের ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, আমার কোনো ধরনের রাজনৈতিক ইচ্ছা নেই। আমি আপনাদের দেওয়া দায়িত্ব পালন করছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনীতি ও সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। রাজনীতি-সংগ্রাম চলতে থাকে এবং রিফর্ম হচ্ছে, চলবে। রিফর্ম কমিটিগুলোর কাছে প্রত্যাশা করি, সরকার দ্রুত সংস্কার কমিশন থেকে রিপোর্ট নিয়ে জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, সব রিফর্ম জনগণের দ্বারা রেকটিফাই হতে হবে, জনগণকে মেনে নিতে হবে। জনগণের পার্টিসিপেশন ছাড়া কখনোই রিফর্ম, কখনো সাসটেইনেবল হবে না। ওপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে কোনো রিফর্ম সফল হয় না। আইয়ুব খান ও এরশাদও সেটা চেষ্টা করেছেন কিন্তু সম্ভব হয়নি। সুতরাং এমন কিছু করা যাবে না, যেটা আমাদের দেশের সঙ্গে, মানুষের কালচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে অনেক ইস্যু আসবে। মনে রাখতে হবে, চক্রান্ত কিন্তু শেষ হয়নি। ফ্যাসিস্টদের মূল লোক চলে গেলেও তাদের কাঠামো ফ্যাসিস্ট রয়ে গেছে। ওই ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও কাঠামোর পরিবর্তন হয়নি। আমরা ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। ’১৬ সালে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০-৩০’ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রেইনবো নেশন, মানুষের অধিকারসহ বিভিন্ন কথা বলেছেন। তারেক রহমান বলেছেন, অস্থির হওয়ার কিছু নেই, অস্থির হওয়া চলবে না। সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রের স্বার্থ সেটা আপনার সামনে আনতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ গভর্নর বলছেন, ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগের লোকরা। এজন্য তো এদের রাষ্ট্রদ্রোহী বিচার হওয়া উচিত। কারণ এরা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করেছে। শিক্ষক থেকে চিকিৎসক, আইনজীবী ও প্রশাসক বেশির ভাগ জায়গাতেই দুর্নীতি। ১৫-১৬ বছরের জঞ্জাল তারা এভাবে গণতন্ত্রকে তিলে তিলে হত্যা করেছে। এই মুহূর্তে শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো হঠকারিতার কারণে যদি ভুল হয়ে যায়, আমরা রাষ্ট্র হিসেবে বড় বিপদে পড়ে যাব।’ তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার একটা টেকনোক্র্যাটদের সরকার। এরা পলিটিক্যাল লোক নয়। তারা আমাদের সাহায্য করতে এসেছে। নিরপেক্ষ থেকে রাস্তা দেখিয়ে দেবে। রাজনীতিবিদদের সমস্যা সমাধান করতে হবে, রাজনীতিবিদ ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান হয় না, হতে পারে না। আমরা অস্থির না। ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে, আমরা বাম-ডান সবাইকে একত্র করতে পেরেছিলাম। এটাকে (ঐক্যকে) নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক আব্দুল হালিম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত