‘আমি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছি। কিন্তু এখন আমি তারকা। তবে মনের দিক থেকে আমি খুব সহজ-সরল মানুষ। আপনি যে লোকটিকে মানুষের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়তে দেখেন ওটা আমি নই। আমি দুই বছর ধরে কোনো সাক্ষাৎকার দিচ্ছি না। আমি বলতে চাই যদি মনে করেন আপনি সেই তারকার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তবে তিনি এখানে নেই।’
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে ৭৭তম লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেওয়া একটি ইন্টারভিউতে এমন কথাই বললেন বলিউড মেগাস্টার শাহরুখ। এটি গত দুই বছরে তার দেওয়া প্রথম কোনো ইন্টারভিউ।
৬০ ছুঁইছুঁই জীবনের ৩২ বছর ধরে অভিনয়ের সঙ্গে রয়েছেন শাহরুখ খান। আজ তার ৫৯তম জন্মদিন। টেলিভিশন ধারাবাহিক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হলেও তিনি থেমে থাকেননি। সিনেমা, বিজ্ঞাপন, ভিএফএক্স স্টুডিও তৈরিসহ নানা উদ্যোগে জড়িয়েছেন। পেয়েছেন আকাশচুম্বী সফলতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, জন্মদিন ঘিরে শাহরুখের বাসভবন ‘মান্নাত’ সাজছে আলোর রোশনাইয়ে। অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন তার স্ত্রী গৌরী খান। এছাড়াও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে শাহরুখের আগামী সিনেমার।
লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ভারতীয় সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় শাহরুখকে ‘পারদো আল্লা ক্যারিয়েরা’ দেওয়া হয়। উৎসবে প্রদর্শিত হয় ২০০২ সালে নির্মিত সিনেমা ‘দেবদাস’। সেখানে শাহরুখের সঙ্গে কথা হয় দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদক পিটার ব্র্যাডশো’র। সেখানে নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন শাহরুখ।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদকের মতে, লোকার্নোতে যখন শাহরুখ পুরস্কার নিতে যাচ্ছিলেন মনে হচ্ছিল তিনি কোনো সম্রাট। সাংবাদিক জানতে চান, শাহরুখের পুরস্কার পেতে ভালো লাগে কি না।
অভিনেতা হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে বড় নির্লজ্জ! আমি পুরস্কার পেতে ভালোবাসি। তবে বক্তৃতা দিতে গেলে ঘাবড়ে যাই। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে। তখন ভারতীয় সিনেমাকে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে হয়। আমাকে আমার সেন্স অব হিউমার নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কারণ ভারতের জন্য সিনেমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
শাহরুখ খান নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ‘ডর’ এবং ‘বাজিগর’ সিনেমায় মন্দ লোকের চরিত্রে অভিনয় করে আলোচিত হন। পরবর্তী সময়ে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ তাকে সুপারস্টার বানিয়ে দেয়। এরপর বহু পারিবারিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন ‘দ্য গাই ফ্রম নেক্সট ডোর।’ আর অবশ্যই তার সর্বশেষ অ্যাকশন সিনেমা ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’ তাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেছে।
ট্রফি ক্যাবিনেট আছে কি না জানতে চাইলে শাহরুখ বলেন, ‘আমার কাছে ৩০০ পুরস্কার আছে। আমার ৯তলা অফিসের প্রতিটিতে কিছু পুরস্কার রাখা আছে।’
শাহরুখ এমন চরিত্র পছন্দ করেন যেখানে তিনি রূঢ় হতে পারেন। কিন্তু তাকে এমন চরিত্র দেওয়া হয় না। নির্মাতারা তাকে এমন চরিত্র দেন যেখানে তিনি নারীদের ভালোবাসেন।
তিনি বলেন, ‘যখন আমাকে কোনো চরিত্র দেওয়া হয় আমি খুব নার্ভাস হয়ে পড়ি। প্রশ্ন করি আমি কি চরিত্র বুঝতে পারছি? কমিক টাইমিং কি ঠিক আছে? আমি কি স্বর খুঁজে পেয়েছি?’
অভিনয় জীবনের তিন দশকে এসে অ্যাকশন হিরো হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন শাহরুখ। তিনি কি টম ক্রুজের মতো পুরোপুরি অ্যাকশন হিরো হবেন?
শাহরুখ বলেন, ‘‘আমি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে আসি তখন আমি অ্যাথলেট ছিলাম। আমার জীবনের স্বপ্ন ছিল সিক্স প্যাক
থাকবে, সাদা টি-শার্ট পরব। একজন নারীকে জড়িয়ে ধরব, আমার মুখে রক্ত থাকবে আর হাতে বন্দুক। আমি স্বপ্ন দেখতাম একটি দৃশ্যের যেখানে একটি ঘরে ঢোকার পর ‘তুমি কে’ জানতে চাইলে তাদের গুলি করব।’’ কোভিড মহামারীর সময় চার বছরের বিরতি নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোভিডের সময় কিছু করার ছিল না। আমি সবাইকে বলছিলাম রান্না শিখুন। আমি ওয়ার্ক আউট করছিলাম। বডি বানিয়েছি। চার বছর পর মানুষ আমাকে মিস করতে শুরু করে। তারা বলে, তুমি কী সিনেমা করবে? আমি বলি অ্যাকশন সিনেমা হলে করব।’
সাধারণত ভোরের দিকে ঘুমাতে যান শাহরুখ। শুটিং থাকলে ৯টা বা ১০টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন। তারপর রাত ২টায় ঘরে ফিরে ওয়ার্ক আউট করেন।
শাহরুখ বলেন, ‘ভারতীয় সিনেমা একটি রেস্টুরেন্টের মতো। এখানে গান, কমেডি, ড্রামা, নাচ সব আছে। আমি বিশ্বাস করি এটি অনেক কঠিন কাজ। বলিউড সিনেমাকে কমেডি, রোমান্স, হরর, মিউজিক্যালে ভাগ করে না। এটি পুরো গল্পটি বলে।’ একইসঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘আবেগ হলো অন্ধকার যা থিয়েটারে আপনাকে ঘিরে থাকে।’
