পুলিশের নিষেধাজ্ঞার পর জাপার সমাবেশ স্থগিত

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৪৩ এএম

পুলিশের নিষেধাজ্ঞার পর রাজধানীর কাকরাইলে আজ শনিবার ডাকা সমাবেশ স্থগিত করেছে জাতীয় পার্টি। গতকাল শুক্রবার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু গণমাধ্যমকে জানান, গতরাতে দলের চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে বৈঠক করে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি স্থগিত করেছি। এ সমাবেশ কর্মসূচি কবে করা হবে, পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এরপর গতকাল দুপুরে জাপার বনানীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও আগামীকাল (শনিবার) কাকরাইলে জাতীয় পার্টি সমাবেশ করবে। দলটির সমাবেশ ঘিরে শনিবার বেলা ১১টায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র শ্রমিক জনতা’। এ ছাড়া ছাত্র অধিকার পরিষদও জাতীয় পার্টিকে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘আমরা ২ তারিখ (শনিবার) যে কর্মসূচি দিয়েছি, সে কর্মসূচি চালু থাকবে। কেউ ভয় পাবেন না, যে যেখানে আছেন। আমরা মরতে আসছি, আমরা মরতে চাই। কত লোক মারবেন ওনারা, আমরা সেটা দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন, ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। হাত দিয়ে প্রতিবাদ করতে না পারলে মুখ দিয়ে করো। মুখ দিয়ে না পারলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করো। আমাদের সেটা করতে হবে। তার জন্য আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।’

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ব্যানারে একদল মানুষ প্রথমে হামলা ও পরে আমাদের অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময় নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিরোধ করলে তারা ফিরে যায় এবং ফের সংগঠিত হয়ে এসে হামলা চালায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ২ নভেম্বর একটি সমাবেশের আয়োজন করেছিলাম, সেই আয়োজন ঘিরে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে ছাত্র-জনতার ব্যানারে ছাত্র অধিকার পরিষদের একজন নেতা বিন ইয়ামিন মোল্লার নেতৃত্বে একটি দল জাতীয় পার্টি অফিসে ভাঙচুর করেছে, আমরা এর তীব্র ও নিন্দা প্রতিবাদ জানাই। আমরা জানতে পারি, পরে নাগরিক কমিটির ব্যানারে মনির, ইসমাইল ও আনোয়ারের নেতৃত্বে আরেকটি দল আমাদের পার্টি অফিসে হামলা করে।’

অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিলুপ্ত করা দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য জিএম কাদের বলেন, ‘আমরা দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আমরা মহাসমাবেশ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছ থেকে বৈধভাবে অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। একটি কুচক্রী মহল আগামীকালের (শনিবার) যে মহাসমাবেশ নির্ধারিত ছিল, সেটা নস্যাৎ করতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করেছে। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জীবন দিয়ে হলেও সেই সমাবেশ করবে।’

জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ‘আমি কারও নাম বলতে চাই না। একটি রাজনৈতিক দল, যাদের কখনো সংসদে প্রতিনিধি ছিল না। তারা জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করতে চায়। তারা মনে করছে, দল ধ্বংস করতে পারলে আমাদের ভোটগুলো তাদের পক্ষে যাবে। আসলে আমাদের ভোট তারা পাবে না। জাতীয় পার্টি ধ্বংস হলে সেই ভোটের বেশিরভাগ যাবে বিএনপির পকেটে। কিছু পাবে জামায়াত।’

জাতীয় পার্টি জাতীয় পর্যায়ের একটি রাজনৈতিক দল, এ কথা উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বারবার আমাদের কবরস্থ করার পরও আমরা কবর থেকে উঠে এসেছি। কেউ আমাদের ধ্বংস করতে পারেনি। যেহেতু আমরা সহাবস্থানের রাজনীতি করি, আমরা দখলদারি করিনি, সন্ত্রাসের রাজনীতি করিনি, হাট-মাঠ-ঘাট দখল করিনি, মানুষকে অত্যাচার-দলীয়করণ করিনি। আমরা মানুষকে সুশাসন দিয়েছি, উন্নয়ন দিয়েছি, সংস্কার দিয়েছি, গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়েছি। মানুষ তা স্মরণ করে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে বলব, আপনি তো আমাদের, দেশের অভিভাবক। আপনি আমাদের সমান চোখে দেখেন। আমরা সবাই আপনার সন্তান। দোষত্রুটি সবারই থাকে। দোষত্রুটি থাকলে সেভাবে বিচার-আচার করে শাস্তি দেন, আবার কোলে তুলে নেন।’

১৯৯০ সাল থেকে জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর শুরুর দিকে সেভাবে গুরুত্ব না দিলেও এখন তার মনে হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর ষড়যন্ত্র এখনো চালু আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আওয়ামী লীগের দোসর বলা হচ্ছে। কিন্তু দোসর কীভাবে, এর কোনো জাস্টিফিকেশন নেই। ২০০৮ সালে নবম সংসদে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করেছি। কিন্তু ওনার (শেখ হাসিনার) সব অপকর্মে আমরা একাত্ম ছিলাম না। এটা প্রমাণিত। আমরা বারবার বলেছি, ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আমাদের ব্ল্যাকমেইল করে নির্বাচনে নিয়ে যায়। আমি দল রক্ষার স্বার্থে সেই নির্বাচনে যাই। এ ঘটনা অনেকে দেখেছেন এবং জানেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত