নাগরিক ঐক্য'র সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, শেখ হাসিনা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নির্বিচারে মানুষকে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। ৩ আগস্ট তিনি সেনাপ্রধানকে এই নির্দেশ দেন ও বিমান বাহিনী প্রধানকে বলেছিলেন যত হেলিকপ্টার লাগে নামাও ভয় দেখাও। কিন্তু তারা বলেছিলেন সম্ভব নয় ম্যাডাম। কারণ একজন মারা গেলে শতশত ছাত্র-জনতা এগিয়ে আসে। ক্ষমতার এতই লিপ্সা যে শেখ হাসিনা মানুষকে গুলি করে মারতে একবারও চিন্তা করেননি।
শনিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে বগুড়া শহরের সাতমাথা মুক্ত মঞ্চে নাগরিক ঐক্য জেলা শাখার আয়োজনে গণ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ পুলিশের ওপর এতই ক্ষিপ্ত ছিলেন যে, পুলিশকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশ মানুষকে এতই চাঁদাবাজি করেছে যে, মানুষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। এখন পুলিশ আর কাজে যায় না। তদন্ত করতে চায় না। কারণ মানুষের আক্রমণে ভয় তাদের মনে। আমরা পুলিশের এমন বেতন দিতে চাই যাতে তাদের বা হাতের কামাই করতে না হয়। পুলিশ জনগণের বন্ধু হয়ে উঠে।
তিনি আরও বলেন, একদল গেছে আরেক দল এসে দখল শুরু করেছে সকল ক্ষেত্রে। মানুষ এখন আর দখল চাঁদাবাজিতে বিশ্বাস করে না। মানুষ এখন বিকল্পভাবে। ভাল মানুষ খুঁজে যাচ্ছে। এদেশের ধনীদের ১ লাখ টাকা দিলে ৮০ হাজার টাকা তারা বিদেশে পাচার করে, আর গরীবদের দিলে তারা দেশেই কাজে লাগায়। নিজেদের জীবন যাত্রা মান বৃদ্ধিতে কাজ করে। তাই এদেশের ৬ কোটি দরিদ্র মানুষকে মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা দিতে হবে। যা খুব কঠিন কিছু না। দেশের বাজেট এখন ৬ লাখ কোটি টাকা।
মান্না বলেন, আমি প্রধান উপদেষ্টার সাথে মিটিংয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কতদিন ক্ষমতায় থাকতে চান? কারণ যে ক্ষমতায় আসে সে নামতে চায় না। ড. ইউনুস বলেছেন, আমরা যারা দায়িত্ব নিয়েছি তারা সকলেই সফল মানুষ। তাই দেশের মানুষের জন্য আমরা দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনগণের সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাই। দেশের মানুষকে ভালো মানুষ খুঁজে বের করতে হবে। এদেশে এখনও ভালো মানুষ আছে। তাই তাদের নির্বাচিত করে ক্ষমতায় বসাতে হবে। হুন্ডা ও গুন্ডাদের ভোট না দিয়ে ভাল মানুষকে ভোট দিয়ে বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাগরিক ঐক্য বগুড়া জেলা শাখার নেতা অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার সজীব।
গণ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্য বগুড়া জেলার নেতা পিয়াল রহমান, সাইদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, আবুল কালাম আজাদ, মামুনুর রশিদ, সাদ্দাম, পপি, শামীম, রফিকুল ইসলাম।
সমাবেশ শেষে ১১ সদস্য বিশিষ্ট বগুড়া শহর কমিটি ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে আহ্বায়ক হয়েছেন মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক ও সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। এ সময় প্রধান অতিথিকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় কমিশন গঠনসহ ৯ দাবি, রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি
‘ডিজিটাল ভূমি জরিপে মালিকানা নিয়ে মারামারি মামলা কমে যাবে’
৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন