ট্রাম্পের আগাম বিজয় ঘোষণার শঙ্কা

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৫১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হওয়ার আগেই যদি রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন, তাহলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের প্রচারণা শিবির থেকে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মতো ট্রাম্প কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিস্তৃত পরিসরে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হবে।

গত বুধবার এবিসি নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কমলা বলেছেন, ট্রাম্প যদি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নিজেকে বিজয়ী দাবি করার চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত তারা। ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ধৈর্য রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানানোর কথা জানিয়েছেন কমলা হ্যারিস। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্বাচনের দিন জয় ঘোষণা করতে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী তিনি। কিন্তু তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভোট পুনর্গণনার দাবি আসতে পারে। তাই চূড়ান্ত ফলাফল জানার জন্য কয়েক দিন সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

সাধারণত কর্মকর্তাদের দেওয়া ভোট গণনা বিশ্লেষণ করে প্রধান গণমাধ্যমগুলোই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই উদযাপন শুরু করলেও, সচরাচর কাউকে আগেই জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য দিতে দেখা যায় না। তবে এবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কোনো বিশদ বিবরণ দেননি কমলা। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টি ও কমলার প্রচার শিবিরের ছয়জন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ট্রাম্পের জয়ের দাবির বিরুদ্ধে আমরা জনমত গড়ে তুলব। তারা ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয় ঘোষণা করলে তার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।’ ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যখনই ট্রাম্প মিথ্যাভাবে বিজয় ঘোষণা করবেন, আমরা সত্য প্রকাশ করতে বাধ্য হব। এমন দাবি করলেই আমরা টেলিভিশনের মাধ্যমে সত্য প্রচার করা শুরু করব।’

২০২০ সালে নির্বাচনের পরদিন সকালেই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর তিন দিন পর প্রথম কোনো সম্প্রচারমাধ্যম জো বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার এ অভিযোগ বিশ^াস করে ট্রাম্পভক্তরা দেশ জুড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেন। এমনকি ক্যাপিটাল হিলে হামলাও চালান উগ্র ট্রাম্প সমর্থকরা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে। কোন অঙ্গরাজ্যে কত ইলেকটোরাল ভোট থাকবে, তা নির্ধারিত হয় সেখানে কতটি কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট রয়েছে। প্রতিটি কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের জন্য একটি করে ভোট এবং দুজন সিনেটরের জন্য দুটি ভোট বরাদ্দ থাকে। কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট নির্ধারিত হয় একটি অঙ্গরাজ্যে কত জনসংখ্যা রয়েছে, তার ভিত্তিতে।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছে। ১০ বছর পরপর আদমশুমারি হয়। সেই শুমারিতে দেশে জনসংখ্যার যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মোট জনসংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে। আর সে কারণেই সবশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে যে ইলেকটোরাল কলেজ ভোট ছিল, এবার তাতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক ওয়েবসাইট ২৭০টুউইনের তথ্যানুযায়ী, গতবারের তুলনায় এবার টেক্সাসে দুটি, কলোরাডো, মন্টানা, নর্থ ক্যারোলিনা, ফ্লোরিডা এবং অরেগনে একটি করে ইলেকটোরাল কলেজ ভোট বেড়েছে। আর ক্যালিফোর্নিয়ায়, ইলিনয়, ওহাইও, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং মিনেসোটায় একটি করে ভোট কমেছে। তবে চূড়ান্ত ভোটের আগে প্রচারের জন্য পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ শ্রমিক ইউনিয়নের একটি এএফএল-সিআইও। তাদের সদস্যসংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট লিজ শুলার বলেন, সামগ্রিকভাবে কমলার জন্য উৎসাহ অনেক বেশি। কিন্তু লিঙ্গবৈষম্যের কারণে কিছু কিছু ইউনিয়নে তার প্রতি সমর্থন কমতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত