বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা হওয়া জোড়া শিশু নুহা-নাবাকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী বৃহস্পতিবার শিশু দুটিকে হাসপাতাল ছাড়তে হবে। বাকি দুটি অস্ত্রোপচারের জন্য তিন মাস যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি মাসে একবার করে হাসপাতালে এসে ফলোআপ করাতে হবে।
আজ রবিবার জোড়া আলাদা করার অস্ত্রোপচার দলের প্রধান নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাচ্চা দুটি এখন সুস্থ। ছুটি নিতে অসুবিধা নেই। সংক্রমণের ভয় নেই। তবে সতর্ক থাকতে হবে।
বাচ্চা দুটির ছুটি নিয়ে আনন্দ ও উদ্বেগ- দুই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বাবা আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩১ মাস ৩ দিন পর আমার দুই মেয়ে নুহা ও নাবা বাড়ি যাচ্ছে। এখন ওদের বয়স ৩১ মাস ১৭ দিন। অর্থাৎ ওরা হাসপাতালেই বেড়ে উঠেছে। তবে সমস্যা হচ্ছে আমার মেয়ে দুজনের আরও দুইটা অপারেশন বাকি আছে যা সম্পন্ন করতে আরো তিন চার মাস সময় লাগবে। প্রতি মাসে ফলোআপ করতে আসতে বলেছে। তিন-চার মাস পরে বাকি দুটি অপারেশন করবে।
আলমগীর হোসেন জানান, রবিবার হাসপাতালের চিকিৎসকরা মৌখিকভাবে বৃহস্পতিবার ছুটির কথা বলেছেন। পরে তিনি হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে দেখা করলে পরিচালক জানান, বৃহস্পতিবার ছুটি। সবকিছু গোছাতে বলেছেন। তবে শিশু দুটির ছুটিকালীন সময় ও বাকি দুটি অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনও পরামর্শ পাননি তিনি।
এ ব্যাপারে আলমগীর হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন, সংক্রমণের ভয় নেই। কিন্তু ভয় পাচ্ছি প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। ওদের পায়খানা ও প্রস্রাবের রাস্তায় এক ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। সেটা প্রতি সপ্তাহে বদলাতে হয়। প্রতি ব্যাগ দেড় হাজার টাকা করে দুইজনের দুটিতে তিন হাজার টাকা লাগবে। ব্যাগ দুটি দুইবেলা করে ধুতে হয় নরমাল স্যালাইন দিয়ে। চাকরি নেই। বাড়িতে গেলেই যে চাকরি হবে, তাও না। কি ভাবে কি করব- বুঝতে পারছি না।
গতবছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিএসএমএমইউয়ের চিকিৎসকরা জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করেন জোড়া লাগানো শিশু নুহা ও নাবাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি অনুষদের ডিন ও নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে অংশ নেন ৩৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ শতাধিক মেডিকেল টিমের সদস্য। সেই থেকে বাবা-মার সাথে হাসপাতালের কেবিন ব্লকে ৬১৮ নম্বর কক্ষে রয়েছে শিশু দুটি। গত ২১ মার্চ এখানেই কেটেছে নুহা-নাবার দ্বিতীয় জন্মদিন।
জন্মের ১৪ দিনের মাথায় ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল নুহা ও নাবাকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসেন বাবা-মা। বাবা আলমগীর হোসেন রানা একজন পরিবহন শ্রমিক। মা নাসরিন আক্তার গৃহবধূ। বাড়ি কুড়িগ্রাম সদরে। এটা তাদের দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান একটা ছেলে। বয়স ১০ বছর। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ওর আট বছর বয়সে নুহা নাবার জন্ম হয়। গত দু’বছর ধরে সেই ছেলেও সবার সাথে হাসপাতালেই আছে।
প্রথম আট মাস হাসপাতালের ওয়ার্ডে ছিল শিশু দুটি। সেখানে খরচ হয় পাঁচ লাখ টাকার মতো। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই থেকে গত ৩১ মাস ধরে এই হাসপাতালেই আছে শিশু নুহা-নাবা। কিন্তু এখন আর হাসপাতালে থাকার কোনও দরকার নেই বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন। সে জন্য তারা শিশু দুটিকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গণতন্ত্রের জন্য আর রাজপথে নামতে হবে না: আমিনুল হক
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩০৬
আসিয়ান সদস্য পদ পেতে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন চান ড. ইউনূস