লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৭ এএম

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ নিজাম। গত শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে একটি এলাকায় বিমান হামলায় বোমা বিস্ফোরিত হয়ে তিনি প্রাণ হারান। লেবাননে ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

নিজামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা গ্রামে। ২০১২ সালে অবৈধ পথে জীবিকার প্রয়োজনে লেবাননে পাড়ি জমান নিজাম। এরপর থেকে তিনি আর দেশে ফেরেননি। আগামী ডিসেম্বর মাসে তার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

নিজামের বাবার নাম মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস। তিনি আগেই মারা যান। নিজাম লেবাননে যাওয়ার ছয় মাস পরই তার মা মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা লাশ দেশে আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সহযোগিতা কামনা করছেন।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে লেবাননে ফ্লাইট না থাকায় প্রবাসী এই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা সম্ভব নয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছে। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

বৈরুতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয় সময় বিকেলে তিনি একটি কফি শপে অপেক্ষা করছিলেন।

দূতাবাস কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান রেমিট্যান্সযোদ্ধা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। 

স্বজনরা জানান, দুই ভাই-বোনের মধ্যে নিজাম উদ্দিন সবার ছোট। পরিবারের একটু সচ্ছলতার জন্য ধারদেনা করে ২০১২ সালে লেবাননে পাড়ি জমান নিজাম। সেখানে তিনি নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। ১২ বছর পর আগামী ডিসেম্বর মাসে তার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। গত শনিবার রাতে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে নিজামের মৃত্যুর খবর আসে বাড়িতে। নিজামের বাবা-মা মারা গেছেন অনেক আগেই। নিজাম লেবাননে যাওয়ার ছয় মাস পরই তার মা মারা যান।

বোন সায়েরা বেগম বলেন, ‘আমার ভাইরে আমি ঋণ করে টাকা এনে বিদেশ পাঠিয়েছি। ১২ বছর ধরে সে দেশে আসে না। অবৈধভাবে লেবাননে থাকার কারণে দেশে আসতে পারছে না। ধারদেনা করে যাওয়া ঋণ এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। গত শনিবার লেবানন থেকে তার এক বন্ধু ফোন দিয়ে জানিয়েছে আমার ভাই বিমান হামলায় মারা গেছে।’

আরেক বোন পারুল বেগম বলেন, ‘আমার আদরের ছোট ভাই ছিল সে। শনিবার তার এক বন্ধু ফোন দিয়ে খবর দেয় আমার ভাই ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছে। আমার ভাইয়ের লাশ যেন সরকার দ্রুত আমাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে সেই দাবি জানাই।’

বড় ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই আমার ভাইয়ের লাশ সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আশিক আহমেদ বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার সাক্ষী হলো আমাদের কসবার খাড়েরা গ্রাম। আমরা এই হত্যাকা-ের তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি নিজাম উদ্দিনের মরদেহ রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশে আনার দাবি জানাই।’

খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘নিজাম উদ্দিন মারা যাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও পরিবারটির সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন। আমরাও পরিবারটি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহরিয়ার মোক্তার বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে নিজাম উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। পরিবারের পক্ষ থেকে তারা কিছু কাগজপত্র আমার কাছে দিয়ে গেছেন। আমি লাশ আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত