ইসলামি সংগঠনের ক্রয়মূল্যে সবজি বিক্রি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৪৪ এএম

দেশে বন্যা, করোনাসহ যেকোনো দুর্যোগে ইসলামি সংগঠনগুলো মানুষের সেবায় তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। শাক-সবজির চড়া মূল্যের কারণে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। এ সময় ইসলামি সংগঠনগুলো বসে থাকেনি। তারা ক্রয়মূল্যে লাভ ছাড়া সবজি বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা সব মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এমনই কিছু উদ্যোগের গল্প এই লেখায় উল্লেখ করা হলো।

তাকওয়া ফাউন্ডেশন : তাকওয়া ফাউন্ডেশন আলেমদের নেতৃত্বাধীন একটি সেবামূলক সংগঠন। তারা ক্রয়মূল্যে সবজি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীর মিরপুর, মুহাম্মদপুর, কক্সবাজার সদর, ময়মনসিংহের ভালুকা, কুমিল্লার বরুড়া, লালমাই উপজেলা, কেরানীগঞ্জ ও লালবাগে ক্রয়মূল্যে সবজি বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আনা তাদের সবজিগুলো ক্রেতাদের মন জয় করে নিয়েছে। দামে সস্তা, মানেও ভালো। এই সংগঠনটি সবজি বিক্রি ছাড়া বিভিন্ন ধরনের মানবিক কাজ করে থাকে। করোনার সময় বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং অসহায়দের খাদ্য সহায়তায় সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে। তাকওয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান গাজী ইয়াকুব বলেন, আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে কম দামে সবজি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছি। এটা সম্পূর্ণ অলাভজনক উদ্যোগ। সাধারণ মানুষ অনেক খুশি। আমি আরও বেশি খুশি এজন্য যে, অনেক সাধারণ পরিবার ক্রয়মূল্যে সবজি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। সবার প্রতি আমার আহ্বান থাকবে সুযোগ ও সামর্থ্য অনুসারে সবাই নিজ নিজ এলাকায় এটা শুরু করুন এবং প্রান্তিক চাষি থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করুন। এতে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে যাবে এবং অন্যায়ভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কমে যাবে।

আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন : মাদ্রাসা, মুসাফিরখানা, মেহমানখানা, চিকিৎসাকেন্দ্র ও ভাসমান পানি পরিশুদ্ধকরণ প্রকল্প ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কাজ পরিচালনা করে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন। চট্টগ্রামের এই সংগঠনটি এবার ক্রয়মূল্যে সবজি বিক্রি করছে বহদ্দারহাটের বহদ্দার পুকুরপাড় এলাকায়। তাদের মূল উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষ যেন কম দামে সবজি কিনে খেতে পারেন। মানুষের ভেতরে একটু স্বস্তি আসে। তারা ২২ অক্টোবর থেকে ক্রয়মূল্যে সবজি বিক্রির কাজ করে আসছেন। সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির এক সদস্য। সবজি ভেদে বাজারের দামের চেয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা কমে ক্রেতারা এখানে সবজি কিনতে পারছেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে সবজি উৎপাদকরাও সঠিক মূল্য পাচ্ছেন। এখানে দিনে কয়েক লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয় বলে জানা যায়। আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, বাজারে এখন কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণে নেই। গরিবের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে সবজির বাজার। তাই সাধরাণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সংগঠনের পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্যে সবজি বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছি। আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন ২০০৬ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে রেজিস্ট্রেশন পায় এবং ২০১৯ সালে এনজিও ব্যুরোর রেজিস্ট্রেশন-প্রাপ্ত হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ফাউন্ডেশনটি।

আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ.) ফাউন্ডেশন : কিশোরগঞ্জের অন্যতম দ্বীনি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ (রহ.) ফাউন্ডেশন। গত ২৬ অক্টোবর থেকে ক্রয়মূল্যে সবজি বিক্রি করছে। শহরের শহীদি মসজিদের গেইটে তাদের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। বাজার থেকে এখানে সবজির দামে পার্থক্য কেমন জানতে চাইলে ফাউন্ডেশনের অফিস সমন্বয়কারী সৈয়দ জিয়াউর রহমান বলেন, সবজি ভেদে বাজারমূল্য থেকে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্যে বিক্রি করতে পারছি।

পেটুয়া ইসলামি সমাজ কল্যাণ পরিষদ : মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতীমারা গ্রামে জহির নাথের পেটুয়া ইসলামি সমাজ কল্যাণ পরিষদের ‘যে দামে কেনা, সে দামে বেচা’ স্টল থেকে এলাকাবাসী ক্রয়মূল্যে সবজি কিনতে পারছেন। সবজি ভেদে বাজারের সঙ্গে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে কেনা যাচ্ছে। এলাকাবাসী নাথের পেটুয়া ইসলামি সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত