অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং তৃতীয় জনবহুল অঙ্গরাজ্য কুইন্সল্যান্ড, যেটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। গত শনিবার কুইন্সল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাহোরের ২৮ বছর বয়সী মুসলিম নারী বিসমা আসিফ এই নির্বাচনে প্রথম মুসলিম সংসদ সদস্য হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন। ব্রিসবেনের উত্তর উপসাগরীয় শহরতলির স্যান্ডগেটে লেবার পার্টির প্রতিনিধিত্ব করে তিনি সংসদ সদস্য হন। বিসমা আসিফ হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি ও ইংলিশ ভাষায় সমানভাবে পারদর্শী। এ পারদর্শিতা তাকে নানা শ্রেণির ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করেছে।
বিসমা আসিফ বলেন, ‘অনেক ভোটারের সঙ্গে আমি তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলেছি, তাদের কাছে ভোট চেয়েছি এবং তাদের সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখিয়েছি। একজন বিদেশি হিসেবে আমার প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল আশাব্যঞ্জক। তারা আমার কথাবার্তা ও আচরণে সন্তুষ্ট ছিল।’
অবশ্য অস্ট্রেলিয়ায় বিসমা আসিফের প্রাথমিক যাত্রা সহজ ছিল না। তিনি ৮ বছর বয়সে লাহোর থেকে অস্ট্রেলিয়া যান। ইংলিশে পারদর্শিতা না থাকায় তখন সেখানে মানিয়ে নিতে তার কষ্ট হতো। এরপর ধীরে ধীরে তিনি সবকিছুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তিনি খুব পরিশ্রমী। যেকোনো কাজে খুব পারদর্শী। অসুস্থতা সত্ত্বেও ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি আলাদা তিনটি কাজ করতেন পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য। কাবাবের দোকান, পিৎজা প্লেস এবং একটি কল সেন্টারে কাজ করেছেন, যেখানে কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক মজুরি ঠকানোর ঘটনাও ঘটত। অতঃপর স্বাস্থ্যবীমা সংক্রান্ত একটি জটিলতাকে কেন্দ্র করে তিনি লেবার পার্টি এবং ইউনিয়ন অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গে জড়িত হন। তার রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে। তখন তিনি মন্ত্রী আনিকা ওয়েলসের পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেছেন।
বিসমা আসিফ লেবার’স ফিকশনাল রাইট, অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এবং ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বিয়ে করেছেন এবং স্বামীকে নিয়ে স্যান্ডগেটে বসবাস করছেন। নিজের ধর্ম সম্পর্কে বিসমা আসিফ বলেন, ‘আমি নিজেকে মুসলিম হিসেবে বর্ণনা করি। আমার ধর্ম আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা আমার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।’ সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
