বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তি কে হচ্ছেন

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:১৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চলছে। এই নির্বাচনেই ঠিক হতে চলেছে— বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি কে হচ্ছেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে এবার।

দেশটিতে ইতিমধ্যে আগাম ভোট দিয়েছেন ৮ কোটি ভোটার। নির্বাচনে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবেন, তিনিই যে জয়ী হবেন; এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। দেশটির ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন না। ভোটের ফল নির্ধারণ হয় ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ পদ্ধতির মাধ্যমে। এর মাধ্যমে যে প্রার্থী বেশি ভোট পেয়ে থাকেন তাকেই যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়।

ইলেক্টোরাল কলেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যবহৃত রাষ্ট্র-কেন্দ্রীয় আইনের জটিল ব্যবস্থা। ইলেক্টোরাল ভোটে টাই হলে ‘হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস’ নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন।

ইলেক্টোরাল কলেজ আসলে কী?

ইলেক্টোরাল কলেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত রাষ্ট্র ও কেন্দ্রীয় আইনের একটি জটিল ব্যবস্থা, যা দেশটির সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত। ‘কলেজ’ শব্দটির অর্থ এখানে সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যারা একটি অঙ্গরাজ্যের ভোট দেওয়ার অধিকারী। ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ হচ্ছে কর্মকর্তাদের একটি প্যানেল, যাদের ‘ইলেকটরস’ বলা হয়। এরা এক কথায় নির্বাচক মণ্ডলী। প্রতি চার বছর পর পর এটি গঠন করা হয় এবং এরাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট বাছাই করেন।

কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে প্রতিটি স্টেট বা অঙ্গরাজ্যে ইলেকটরসের সংখ্যা নির্ধারিত হয়: যা নির্ধারিত হয় স্টেটে সেনেটরের সংখ্যা (প্রত্যেক স্টেটে দুইজন) এবং প্রতিনিধি পরিষদে প্রতিনিধির (যা জনসংখ্যার অনুপাতে) যোগফল মিলে।

দেশটির মোট ইলেকটোরাল কলেজের সংখ্যা ৫৩৮। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটিতে জয়ী হওয়ার অর্থ একজন প্রার্থী সেই অঙ্গরাজ্যের সবকটি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেয়ে যাবেন। মেইন ও নেব্রাসকা এ দুটি অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সব রাজ্যের ইলেকটোরাল কলেজ ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন, তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।

সাধারণত প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি করে ইলেকটোরাল ভোট থাকে, যা ওই অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার মোটামুটিভাবে সমানুপাতিক হয়। ক্যালিফোর্নিয়াতে আছে সর্বাধিক ৫৪টি এবং ভায়োমিং, আলাস্কা ও নর্থ ডাকোটার (ওয়াশিংটন ডিসি) মতো যেসব অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যা খুবই কম, তাদের আছে তিনটি ইলেকটোরাল ভোট। ধরা যাক, টেক্সাসে একজন প্রার্থী ভোটারদের সরাসরি ভোটের ৫০.১ শতাংশ পেয়েছেন, তখন ওই অঙ্গরাজ্যের ৪০টি ইলেক্টোরাল ভোটের সব সেই প্রার্থী পেয়ে যাবেন। একটি অঙ্গরাজ্যে জয়ের ব্যবধান যদি বিরাট হয়ও, তাহলেও জয়ী প্রার্থী অত ইলেকটোরাল ভোটই পাবেন।

উইনার-টেইক-অল

বেশিরভাগ রাজ্যে নিয়ম হল- ‘উইনার-টেইক-অল’। মানে কোনো রাজ্যে যদি দশটি ইলেকটোরাল ভোট থাকে, তার মধ্যে যে দল অন্তত ছয়টি, অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ ইলেকটোরাল ভোট পাবে, ওই রাজ্যের সবগুলো অর্থাৎ দশটি ইলেকটোরাল ভোটই সেই দলের বলে গণ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি রাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় এই নিয়ম অনুসরণ কর হয়। কিন্তু নেব্রাস্কা ও মেইন রাজ্যে উইনার-টেইক-অল নিয়ম অনুসরণ করা হয় না, এখানে প্রার্থীদের পাওয়া ভোটের অনুপাতে ইলেকটোরাল ভোট ভাগ করে দেওয়া হয়।

ইলেক্টোরাল ভোটে টাই হলে কী হবে?

যদি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেউ না পান, সে ক্ষেত্রে মার্কিন আইন সভার নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে। মাত্র একবারই এটি হয়েছে ১৮২৪ সালে। ইলেকটোরাল কলেজের ভোট চারজন প্রার্থীর মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ায় কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি।

কোন রাজ্যে কত ইলেক্টোরাল ভোট?

২০২০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এবারও সবচেয়ে বেশি ৫৪টি ইলেক্টোরাল ভোট রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। এরপর রয়েছে টেক্সাস ৪০, ফ্লোরিডায় ৩০, নিউ ইয়র্ক ২৮, ইলিনয় ও পেনসিলভানিয়ায় ১৯টি করে। এছাড়া ওহাইওতে ১৭, জর্জিয়ায় ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ১৬টি করে, মিশিগান ১৫, নিউ জার্সিতে ১৪, ভার্জিনিয়াতে ১৩, ওয়াশিংটনে ১২, আরিজোনা, টেনেসি, ম্যাসাচুসেটস ও ইন্ডিয়ানায় ১১, মিনেসোটা, উইসকনসিন, ম্যারিল্যান্ড, মিজৌরি ও কলোরাডোতে ১০টি করে, অ্যালবামা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় ৯টি করে, কেন্টাকি, অরেগন ও লুইজিয়ানায় ৮টি করে, কনেটিকাট ও ওকলাহোমায় ৭টি করে, মিসিসিপি, আরকানস, ক্যানজাস, আইওয়া, নেভাডা ও ইউটায় ৬টি করে; নিউ মেক্সিকো ও নেব্রাস্কায় ৫; ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, নিউ হ্যাম্পশায়ার, মেইন, রোড আইল্যান্ড, আইডাহো ও হাওয়াইতে ৪টি করে; মন্টটানা, নর্থ ডাকোটা, ভার্মন্ট, ডেলাওয়ার, ওয়াইওমিং, সাউথ ডকোটা, আলাস্কা ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় ৩টি করে ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে।

এবারের জনমত সমীক্ষা বলছে— ট্রাম্পের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে কমলা হ্যারিসের। কিন্তু নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে এগিয়ে ট্রাম্পই। নেভাদা, অ্যারিজোয়ানা, মিনেসোটা, পেনসিলভেনিয়া, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিন- এই ‘অনিশ্চিত’ প্রদেশগুলোই ঠিক করবে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ফিরছেন কি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত