বাংলাদেশ সংস্কারের সন্ধানে 

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:২৫ এএম

পতিত স্বৈরাচারের দীর্ঘ সময়ে অনেক চমক শব্দগুচ্ছ পর্যায়ক্রমে শুনতে হচ্ছিল উন্নয়নের মহাসড়ক, ডিজিটাল বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ, জিরো টলারেন্স প্রভৃতি। তবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এর বিপরীতে ছাত্রদের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমের একটি বক্তব্য শুনে চমকিত হয়েছিলাম। হুবহু মনে নেই। তবে মর্মার্থটা ছিল এ রকম সেই চেতনা দিয়ে আমরা কী করব, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা দেয় না, বেকারকে কর্ম দেয় না, বৈষম্য নিরসন করে না, বাকস্বাধীনতা দেয় না, দেশেকে দেয় না সুশাসন ও ন্যায়বিচার। কিন্তু এত আত্মদানের পর এখন দেশে কী হতে চলেছে?

‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারটা তিন দিন পর তার যাত্রা শুরু করল বটে, তবে সেটা স্বৈরাচারের নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতির হাত ধরে এবং স্বৈরাচার সংশোধিত সংবিধান রক্ষা করার শপথ নিয়ে। এ সংবিধানে স্বৈরাচার সংযোজিত অনুচ্ছেদ ৭ক(১)তে লেখা আছে যে, কেউ যদি সংবিধান ভঙ্গ বা রদ করে তবে সেটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য হবে। এখানেই শেষ নয়, সরকার গঠনের জন্য আমাদের পণ্ডিতরা আপিলেট ডিভিশনের মতামত পর্যন্ত চেয়ে বসেন, যেন অভ্যুত্থানের বৈধতা কোর্টের মতামতের ওপর নির্ভরশীল। এ তো গেল শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার টেকনিক্যাল দিক। প্রায়োগিক দিকের অব্যবস্থাও সঙ্গিন।

দেশে কমপক্ষে ৪০-৪৫টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত উপদেষ্টার সংখ্যা মাত্র ২০ জন, বিশেষ সহকারী হিসেবে রয়েছেন ৬ জন। উপদেষ্টাদের অধিকাংশই বয়োবৃদ্ধ ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং সরকারি প্রশাসন পরিচালনায় অনভিজ্ঞ। দুয়েকজন যারা অভিজ্ঞ, তাদের দক্ষতা এখন কোন পর্যায়ে, কিছু কর্মকর্তাকে মাঠ পর্যায়ে পদায়নের সময় সেটা সবাই লক্ষ্য করেছেন। পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে অনেকেই অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছেন। অথচ প্রশাসন চলছে এসব কর্মকর্তার মাধ্যমেই। মন্ত্রণালয়গুলোর নিত্যকর্মের যে গুরুভার, সেটাই উপদেষ্টাদের পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন। অধিকন্তু হঠাৎ মুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ ও সহনশীল সরকার পেয়ে অসংখ্য সংগঠন ও গোষ্ঠী এখন দাবি আদায়ে মাঠে শক্তি প্রদর্শন করে চলেছে এবং সরকারও তাদের একের পর এক ছাড় দিয়ে চলেছেন। কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষের অস্বস্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

অবশ্য অকস্মাৎ উদার রাজনৈতিক পরিবেশে এরূপ টালমাটাল অবস্থা হওয়া স্বাভাবিক। ১৯৬০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বৈরশাসক সিংম্যান রি-র  পলায়নের পর  নতুন যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন মাত্র আট মাসে নানা দাবিদাওয়া নিয়ে সেখানে প্রায় ২,০০০টি বিক্ষোভ মিছিল হয়, প্রায় ২,০০০ বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হন, ২,২০০ সরকারি কর্মকর্তা ও ৪,০০০ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হন। এ প্রেক্ষাপটেই ১৯৬১ সালে সেনাপ্রধান পার্ক হিং-চু দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এখন এ দেশে যে সেই অবস্থা চলছে, সে কথা আগের একটি লেখায় উল্লেখ করেছিলাম। এ জন্য দেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরূপ পরিস্থিতি সামলাতে নিজেদের শক্তি, সামর্থ্য, জনসমর্থন ও দেশের চরম পীড়াদায়ক সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

এ মুহূর্তে দেশের প্রধান সমস্যা মুদ্রাস্ফীতি; এখনো এটার হার ১০ শতাংশের মতো, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি আরও বেশি। বিগত প্রায় আড়াই বছর ধরে এটা সীমিত আয়ের মানুষজনকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করলেও এখন সে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন মুদ্রাস্ফীতির হার যুক্তরাজ্যে ২ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩ শতাংশ, কানাডায় ১ শতাংশ। দুবছর আগে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কায় মুদ্রাস্ফীতি এখন ১ শতাংশ। এ অঞ্চলে শুধু পাকিস্তান ছাড়া সব দেশের চেয়ে দেশে মূল্যস্ফীতি বেশি (বণিক বার্তা, অক্টোবর ৩১, ২০২৪)। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বাড়িয়ে চলেছে। তাতে বিগত সেপ্টেম্বর মাসে মুদ্রাস্ফীতিতে যৎসামান্য ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। কিন্তু এটা সামনে কতটুকু ইতিবাচক থাকবে, তা বলা মুশকিল; কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন উদার হস্তে কিছু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বন্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে তহবিল সরবরাহ করে যাচ্ছে, এ তহবিলের পরিমাণ ইতিমধ্যে ৪০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে ((Financial Express, October 31, 2024)। এতে বাজারে বিপরীতমুখী প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া আমাদের মতো দেশে শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খল ও খুচরা বাজার নির্বিঘ্ন রাখার ব্যবস্থা নেওয়া এবং উপযুক্ত পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি পেতে অন্যান্যের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের কুশীলবদের প্রতিযোগিতায় আনার ব্যবস্থা করা দরকার।  

স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনটা শুরু হয়েছিল চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। এর মানে হলো, দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে; ফলে এটার ভাগ পেতে চলছে কাড়াকাড়ি। বিগত ৮ আগস্ট রয়টার পরিবেশিত এক খবরে দেখলাম যে, দেশে নাকি ৩২ মিলিয়ন যুবক কর্ম অথবা শিক্ষার বাইরে অবস্থান করছে। খোদ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে, ৪০ শতাংশ যুবক কোনো কর্ম বা শিক্ষার মধ্যে নেই। এখানে ৩ হাজার বেসামরিক পদের জন্য প্রায় চার লাখ প্রার্থীকে প্রতিযোগিতা করতে হয় (Financial Express, 3 Nov.2024)। বর্তমানে উন্নয়নের প্রবৃদ্ধি যেভাবে নেমে যাচ্ছে, তাতে সামনে কর্মসংস্থানের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়বে। সংকোচনশীল মুদ্রানীতিও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।  শুধু তাই না, রিজার্ভ রক্ষার্থে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এতে অনেক মূলধনী ও মধ্যবর্তী সামগ্রী আমদানি কমে যাচ্ছে; ফলে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি কমে যাচ্ছে। আবার দেশে চলছে জ্বালানি সংকটের দুষ্টচক্র। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গ্যাসের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে পেট্রোবাংলা প্রয়োজনীয় জ্বালানি (এলএনজি) আমদানি করতে পারছে না। আবার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সরবরাহকৃত বিদ্যুতের বকেয়া বিল বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাচ্ছে না বলে পেট্রোবাংলাকে গ্যাসের মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগ তো হচ্ছেই না, উল্টো চলমান কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স হলো দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করার দুই বাহন। এ দুটো খাতের উন্নয়নে তেমন কোনো পদক্ষেপের কথা শোনা যাচ্ছে না; শুধু শোনা যাচ্ছে ভোলার গ্যাসফিল্ডে কিছু নতুন কূপ খননের কথা।

আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ তেমন একটা নেই বললেই চলে। কিন্তু আছে পর্যাপ্ত আদম সন্তান। কিন্তু সমস্যা হলো, এই আদম সন্তানরা আসলে আকাটা হীরার মতো; হীরা যেমন কেবল সঠিক প্রক্রিয়ায় কাটার পর তার ঔজ্জ্বল্য ও মূল্য বৃদ্ধি পায়, আদম সন্তানও তেমনি প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা এবং উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পেলে মানব সম্পদে রূপান্তরিত হয়। বিগত সরকার এই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরটাকে এড়িয়ে বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে বৈদেশিক মুদ্রায় মাত্রাতিরিক্ত দায় পরিশোধ ও  অর্থ পাচারের পথ সুগম করে। কিন্তু এই বৈদেশিক মুদ্রার পুনর্ভরণ কীভাবে হবে, সেটা তারা আদৌ ভেবে দেখেনি। এই অবিমৃষ্যকারিতাই দেশের রিজার্ভ দুর্গতির কারণ; কারণ এই প্রলম্বিত মুদ্রাস্ফীতিরও। অথচ একটি মেগা প্রকল্পের অর্ধেক খরচেও লাখ লাখ আদম সন্তানকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা যেত, যা হতে পারত  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটা নির্ভরযোগ্য উৎস। বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলো বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে শুধু প্রটোকল করে বেড়ায়। অথচ স্বদেশীদের বিদেশে কর্মসংস্থানে  তাদের তেমন একটা উৎসাহী দেখা যায় না; বলা হয়, সেখানে নাকি কর্ম নেই। অথচ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও)  সাম্প্রতিক একটা প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। আইএলওর ওই প্রতিবেদন (FE, 30 Oct. 2024) থেকে দেখা যায় যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ২০৩৫ সালের মধ্যে শুশ্রুষার একটি মাত্র খাতেই কর্মের চাহিদা দাঁড়াবে ৩০০ মিলিয়ন, যেখান থেকে বাংলাদেশের ৭ মিলিয়ন শুশ্রুষাকারীর কাজ পেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সফলতা আনতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন সব পণ্ডিত রাষ্ট্রযন্ত্রের নানা মেরামত ও সংস্কার নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন। সেটা করা গেলে অবশ্যই ভালো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা কতটা ও কত দিনে করা সম্ভব হবে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা হচ্ছে না। পরবর্তী জাতীয় সংসদ বা গণপরিষদকেই  তো বাঞ্ছিত সব সংস্কার অনুমোদন করতে হবে। সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের আগেই সংস্কার প্রশ্নে অভিন্ন অঙ্গীকারে আনতে  হবে। যে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে না, সে দেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য, বিশেষ করে নির্বাচনের পরে, প্রায় অসম্ভব। ইতিহাসে এর দৃষ্টান্ত আছে।

অখণ্ড ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দেওয়ার লক্ষ্যে ক্যাবিনেট মিশন যে পরিকল্পনা পেশ করে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস উভয় দলই সেটা মেনে নেয়। কিন্তু মুসলিম লীগ সেখান থেকে সরে আসার অজুহাত খুঁজছিল। কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই বোম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জওহরলাল নেহরু ঘোষণা করেন যে, কংগ্রেস ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান গ্রহণ করেছে বটে, কিন্তু ওটা পরিবর্তন করতেও তারা বাধামুক্ত। এই কথাটাই জিন্নাহকে ওই প্ল্যান বর্জন করার ও ভারতবর্ষ ভাঙার মওকা তুলে দেয়। সংস্কারের সুবিধা অনিশ্চিত, কিন্তু পীড়ন ও অসুবিধা নিশ্চিত। কাজেই কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সংস্কার বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব। আবার অন্তর্বর্তী এ সরকারের জন্য এ কাজটা  সুবিধাজনক হলেও এর পীড়ন ও অনিশ্চয়তার জন্য দীর্ঘদিন জনমত ধরে রাখাও কঠিন। অন্তর্বর্তী সরকারকে এসব বিবেচনা করেই নিজেদের কাজ ও মেয়াদ ঠিক করতে হবে।  

দেশে এখন এমন একটা সরকার ক্ষমতায় আছে, যার না আছে কোনো দল, না আছ কোনো স্থায়ী সমর্থক গোষ্ঠী। এখানে আছে নানা পথ ও মতের মানুষ, তাদের মধ্যে রয়েছে মিল-অমিলের এক বৈচিত্র্যময় সমাহার; রয়েছে সমন্বয়েরও অভাব। দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা এখনো অনেকটাই ভঙ্গুর। অনেকের ধারণা, নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত এ অস্থির পরিস্থিতি যাবে না। এ অবস্থায় দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না। এতে সাধারণ মানুষ ও বেকারদের স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্র আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।

এ মুহূর্তে দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং  মানব সম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থান হতে পারে বর্তমান সরকারের দক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতার একটি অ্যাসিড টেস্ট। অন্যথায় সংস্কারের চাঁদ ঝলসানো রুটি হয়ে উঠতে পারে, যেটা কারোরই কাম্য নয়।

এক প্রাজ্ঞ বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা ভোট হারানোর ভয়ে রাস্তা সম্প্রসারণে আশপাশের বাড়িঘর ভাঙতে ভয় পান; অথচ নির্ভার প্রশাসকরা এ কাজ সহজেই করতে পারেন। সেভাবে ড. ইউনূসের নির্ভার সরকার যদি একটা আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করে দিয়ে যান, তবে ক্ষতি কী? তার উত্তর ছিল রাজনীতি জিনিসটাই খুব জটিল, এটা কোনো তত্ত্ব মেনে চলে না; কাজেই শিক্ষাবিদ বা অর্থনীতিবিদরা এটা আদৌ রপ্ত করতে পারেন না। এ জন্য এখন পর্যন্ত মাত্র একজন ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  ভূরি ভূরি ডক্টরেটদের কেউই প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। পরিশেষে বন্ধুটি শুধু একটি ল্যাটিন শব্দগুচ্ছ উচ্চারণ করেছিলেন, Caveat Actor। আমি অবশ্য এর মাথামু-ু কিছুই বুঝিনি; আপনারা যদি বুঝতে পারেন ভালো!

লেখক: সাবেক মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর ও কলামিস্ট

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত