সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের একটি রাস্তা ঠিক করতে এসে উল্টো ইট তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। এরপরই এর কাজ শেষ করা নিয়ে শুরু করেন টালবাহানা। একপর্যায়ে ৩ কোটি ২ লাখ টাকা বরাদ্দের দুই কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ না করেই পালিয়ে যায় ঠিকাদার ও তার লোকজন। ফলে গত সাড়ে তিন বছর ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ।
খবর নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া শামসুলের বাড়ি থেকে শাহজাহান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ না করেই পালিয়ে গেছেন ঠিকাদার।
নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুনন্নাহার জানান, তার স্কুলে যাতায়াতের জন্য এটিই একমাত্র পথ। রাস্তাটিতে ইট বিছানো ছিল। ঠিকাদার রাস্তাটি পাকা করতে এসে সবার আগে ইট সরিয়ে নিয়েছেন। তখন থেকেই রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে হাঁটুপানি জমে। তখন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অর্ধেক নেমে আসে।
শাহজাদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইউজি ওয়ান ওয়ানপি-৩ প্রকল্পের (নগর পরিচালন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প) অধীনে তিন কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় নলুয়ার ওই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। নাটোর জেলার ঠিকাদার মীর হাবিবুর আলম দরপত্রের মাধ্যমে রাস্তাটি নির্মাণের জন্য কাজ পায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাড়ে তিন বছর আগে রাস্তাটিতে সামান্য মাটির কাজ করে ৩০ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করে ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হালিমুল হক মিরু বলেন, ‘আমি একটি মামলায় জেলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন আব্দুল রাজ্জাক। এ সময় ঠিকাদার রাস্তার কাজের ৩০ লাখ টাকা বিল তুলে নিয়ে সটকে পড়েন। তখন থেকেই ঠিকাদার মীর হাবিবুর আলমকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর পৌরসভার দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, তিনি এই পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার আগে রাস্তাটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। তাই শিডিউলে কী ছিল তা তার জানা নেই। তিনি আরও জানান, বর্তমান মেয়রের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ফলে রাস্তাটির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তিনি ভালো বলতে পারবেন।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, রাস্তাটির কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় এ প্রকল্পের অর্থ ফেরত চলে গেছে। এতে রাস্তার কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। তবে পুনরায় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
