স্বাভাবিক হচ্ছে হাজারি গলি, খুলে দেওয়া হলো সিলগালা করা দোকান

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:১১ পিএম

স্বাভাবিক হয়ে আসছে হাজারি গলি। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে সিলগালা করা দোকান। বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। মঙ্গলবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে ৪৯ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার জেরে মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ৮২ জনকে আটকের কথা জানিয়েছিল মহানগর পুলিশ। তাদের মধ্যে ৪৯ জনকে পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

নগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) রইছ উদ্দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে জানান, হাজারি গলির পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। সেখানে  যৌথবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। আজ বৃহস্পতিবার কোনো ধরনের গোলযোগ হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে সেখানকার কোনো দোকানপাট সিলগালা করা হয়নি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা প্রশাসন কিছু দোকান মঙ্গলবার রাতেই সিলগালা করেছিল। সেগুলো বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার ধর্মীয় সংগঠন ‘ইসকন’কে নিয়ে এক ব্যবসায়ীর ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে নগরের হাজারি গলিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই সংঘর্ষ। এতে পাঁচজন সেনা সদস্য এবং ৯ জন পুলিশ আহত হন। এর মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে এসিড ছুড়ে মারে উশৃঙ্খল লোকজন। ভাঙচুর করে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির কাঁচও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।

এ নিয়ে বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে নগরের দামপাড়ায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে করে সেনাবাহিনী। এতে বক্তব্য দেন যৌথবাহিনীর পক্ষে টাস্কফোর্স-৪ এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ। এরপর একইদিন বিকেল ৩টার দিকে সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে সিএমপি উপকমিশনার (অপরাধ) রইছ উদ্দিন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় ইসকন সমর্থকেরা জড়িত বলে সাংবাদিকদের জানান।

তবে গত বুধবার গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ইসকন বলেছে, তাদের সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংগঠনটি পুলিশের বক্তব্যের প্রতিবাদও জানায়। 

সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন,  ‘মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় মিয়া শপিং সেন্টারের ‘মোল্লা স্টোর’ নামের একটি দোকানের মালিক ওসমান আলী হিন্দুদের ধর্মীয় সংগঠন ইসকন’র বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। মূলত ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে হাজারি গলিতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার দিকে আনুমানিক ৫০০  থেকে ৬০০ জন দুষ্কৃতিকারী হাজারি গলিতে ওসমান আলী ও তার ভাইকে হত্যা এবং দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। স্থানীয় কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যদের ৬টি টহল দল সেখানে পৌঁছায়।’

জানমাল রক্ষা এবং মব জাস্টিস রোধে যৌথবাহিনী ওসমান আলী ও তার ভাইকে উদ্ধার করার কথা জানিয়ে সেনা কর্মকর্তা ফেরদৌস বলেন, ‘উত্তেজিত জনতাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়টি আশ্বস্ত করা সত্তেও একপর্যায়ে উগ্র বিশৃঙ্খলাকারীরা আরো আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠেন। ঘটনাস্থলে দুর্বৃত্তরা ইট ছুঁড়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে ফেলে। দুর্বৃত্তরা যৌথবাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে এসিড হামলা চালায়। ইটপাটকেলসহ ভাঙা কাঁচের বোতল ছুঁড়ে মারে। এতে সেনাবাহিনীর পাঁচজন, এবং পুলিশের ৯জন সদস্য আহত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত