মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:১৯ এএম

মহান আল্লাহ প্রতিটি মানুষের জন্য তার মা-বাবাকে রহমতের নিদর্শনস্বরূপ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মা-বাবার কল্যাণেই প্রতিটি মানুষ পৃথিবীতে আগমন করে এবং তাদের লালন-পালনে বড় হয়ে সে জীবনযাপন করতে শুরু করে। এ কারণেই কোরআনের একাধিক আয়াত ও হাদিসে মা-বাবার হক সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে।

কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমার প্রভু এই মর্মে রায় দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করবে। যদি তোমার কাছে তাদের কেউ বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হয় তাহলে তাদের উহ্ শব্দও বলবে না, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবে না, তাদের উত্তম কথা বলবে। তাদের জন্য সদয়ভাবে নম্রতার বাহু প্রসারিত করে দাও আর বলো, হে আমার প্রভু, আপনি তাদের প্রতি তেমনি রহম করুন যেমন তারা আমাকে শিশুকালে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরায়েল ২৩-২৪)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার সর্বোত্তম আচরণের বেশি অধিকারী কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা। (সহিহ বুখারি)

কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে সন্তানদের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব, দুনিয়াতে ইসলামি বিধান মোতাবেক জীবন পরিচালনা করা এবং আখেরাতে তাদের চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য বহু প্রকার করণীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যের আদেশ এসেছে। বর্তমান সময়ে বহু ইসলামি বক্তা শুধু মা-বাবার অধিকার নিয়েই ওয়াজ-নসিহত করেন। অথচ মা-বাবার প্রতি সন্তান জন্মের আগে ও পরে যে দায়িত্বের আলোচনা ইসলামে এসেছে সেসব বিষয়ে কথা বলার এবং জনসাধারণকে জানানোর প্রয়োজনবোধ করেন না। আর মা-বাবার প্রতি সন্তানদের অধিকার বিষয়ে কথা বলা, সন্তানদের প্রতি মা-বাবার অধিকারের বিষয়ে কথা বলার মতোই গুরুত্ববহ।

ইসলামের আলোকে সন্তানের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব হলো এক. জন্মের পরপরই মৃদুস্বরে ডান কানে আজান ও বাম কানে একামত দেওয়া। দুই. সুন্দর নাম রাখা। তিন. আকিকা করা। চার. শিশুকে পুরো দুই বছর বুকের দুধ পান করানো। পাঁচ. সন্তানের লালন-পালন ও ব্যয়ভার বহন করা। ছয়. কন্যা সন্তানদের ব্যয়ভার বহনে অধিক গুরুত্ব দেওয়া। সাত. কমপক্ষে ধর্মের মৌলিক বিষয়াবলি শিক্ষা দেওয়া। আট. সন্তানদের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা এবং স্নেহ করা। নয়. সব সন্তানের প্রতি সমতা ও ন্যায় বজায় রাখা। দশ. বিয়ের উপযুক্ত হলে বিয়ের ব্যবস্থা করা।

মা-বাবার প্রতি সন্তানের ১৪টি দায়িত্ব রয়েছে। এর মধ্যে জীবিত থাকাকালীন সাতটি এবং মৃত্যুর পর সাতটি। জীবিত থাকাকালীন সাতটি দায়িত্ব হলো এক. মা-বাবার সম্মান রক্ষা করা। দুই. তাদের ভালোবাসা। তিন. তাদের আনুগত্য করা। চার. তাদের সেবা করা। পাঁচ. তাদের অভাব মোচন করা। ছয়. তাদের আরাম-আয়েশের প্রতি যতœবান থাকা। সাত. দূরে থাকেল মাঝেমধ্যে তাদের দেখতে যাওয়া।

মৃত্যুর পর তাদের প্রতি সাতটি দায়িত্ব হলো এক. মা-বাবার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা। দুই. তাদের উদ্দেশে সৎকর্মের সাওয়াব প্রেরণ করা। তিন. তাদের বন্ধু ও নিকটতমদের সম্মান করা। চার. তাদের আত্মীয়স্বজনদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। পাঁচ. তাদের ঋণ পরিশোধ করা। ছয়. তাদের শরিয়তসম্মত সকল অসিয়ত কার্যকর করা। সাত. মাঝেমধ্যে তাদের কবর জিয়ারত করা।

মহান আল্লাহ বা-বাবাকে সন্তানের প্রতি যেসব দায়িত্ব প্রদান করেছেন এবং সন্তানকে মা-বাবার প্রতি যেসব দায়িত্ব দিয়েছেন তা সবাইকে যথাযথভাবে পালন করার তৌফিক দান করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত