চার বছর আগে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় শুনানি স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
গতকাল শুক্রবার ফেডারেল প্রসিকিউটররা এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্স।
শুক্রবার আদালতে ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের আসন্ন অভূতপূর্ব প্রত্যাবর্তন পরিস্থিতি এবং বিচার বিভাগের নীতি মেনে কীভাবে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়া যায়, তা নির্ধারণে সময় লাগবে। তাই ট্রাম্পের মামলার শুনানির যে দিন ধার্য করা হয়েছিল, তা স্থগিতের আবেদন করা হয়। পরে জেলা বিচারক তানিয়া চাটক্যান এ আবেদন মঞ্জুর করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭০ সালের বিচার বিভাগীয় নীতিমালা অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কোনো মামলার বিচার করা যায় না। মূলত এই নীতিমালার কারণেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার শুনানির দিন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন বিচারক।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বুধবার রয়টার্সকে জানিয়েছে, ট্রাম্প যেহেতু আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাই বিচার বিভাগ মামলাটি কীভাবে গুটিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করছে।
২০২০ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর ভোট সংগ্রহ ও সার্টিফিকেশন বাধাগ্রস্ত করায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে গত বছর চারটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। যদিও এসব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন ট্রাম্প।
বাইডেনের বিজয় উল্টে দিতে ট্রাম্প সমর্থকরা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজের কাছে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর ক্যাপিটলে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এরপর জ্যাক স্মিথ গতবছর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ফৌজদারি মামলা করেছিলেন।
গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে কোনো কিছু করে থাকলে তার বিচার করা যাবে না। তবে ব্যক্তিগত কোনও কৃতকর্মের জন্য তাঁর বিচার করা যেতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হওয়া নির্বাচনি মামলাটি অচলাবস্থায় পড়ে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্প বিচারে ছাড় পেয়ে গেছেন বলেই ধরে নেওয়া যায়। যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন, ক্ষমতা হাতে পাওয়ার ২ সেকেন্ডেই জ্যাক স্মিথকে বরখাস্ত করবেন তিনি।
ট্রাম্পের জয়ে ৬৪০০ কোটি ডলার সম্পদ বেড়েছে ১০ ধনকুবেরের