যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে হামাস নেতাদের কাতার ছাড়ার নির্দেশ

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:০০ পিএম

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের নেতাদের কাতার ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি চুক্তির সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে এমনটি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানায়, কাতারে হামাসের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ওয়াশিংটন আর মেনে নেবে না। ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতার সরকার ১০ দিন আগে হামাসকে তাদের রাজনৈতিক কার্যালয় বন্ধ করতে বলে।

ওবামা প্রশাসনের অনুরোধে ২০১২ সাল থেকে দোহায় হামাসের একটি রাজনৈতিক শাখা রয়েছে, যাতে গোষ্ঠীটির সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে হামাস নেতারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন; কাতারও এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

ছোট কিন্তু প্রভাবশালী উপসাগরীয় দেশ কাতার এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বছরব্যাপী সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতির জন্য এখন পর্যন্ত ব্যর্থ আলোচনায় কাতারিরা বড় ভূমিকা পালন করেছে।

অক্টোবরের মাঝামাঝিতে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি আলোচনাও ব্যর্থ হয়। বৈঠকে হামাস নেতারা স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তারা বরাবরই যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি প্রত্যাখ্যানের অভিযোগও রয়েছে। এ সপ্তাহের শুরুতে বরখাস্ত হওয়ার কয়েকদিন পর সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তার নিরাপত্তা প্রধানদের পরামর্শ সত্ত্বেও শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার অভিযোগ করেন।

বিবিসি জানিয়েছে, যদি হামাসকে দোহা ছাড়তে বাধ্য করা হয়, তবে তারা তাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ের ঘাঁটি কোথায় স্থাপন করবে তা স্পষ্ট নয়। প্রধান মিত্র ইরান একটি বিকল্প হতে পারে, যদিও জুলাই মাসে তেহরানে সাবেক নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড ইঙ্গিত দেয়, তারা সেখানে অবস্থিত হলে ইসরায়েলের কাছ থেকে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আরও সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে তুরস্ক। ন্যাটোর সদস্য হলেও সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে এটি গোষ্ঠীটিকে এমন একটি ঘাঁটি দেবে যেখান থেকে তারা তুলনামূলক নিরাপদে কাজ করতে পারবে। গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হামাসের তৎকালীন রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া ও তার প্রতিনিধিদলকে ইস্তাম্বুলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। যেখানে তারা ‘গাজায় পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবিক সহায়তা সরবরাহ এবং এই অঞ্চলে একটি সুষ্ঠু ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কী করা দরকার’ তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত